কৌশিকী অমাবস্যার পরেই খালি তারাপীঠের গর্ভগৃহ! এখন কোথায় দর্শন মিলবে মা তারার?

বীরভূমের বিশ্ববিখ্যাত শক্তিপীঠ তারাপীঠ মন্দিরে আসা পুণ্যার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো তারাপীঠ মন্দিরের বড়সড় সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের কাজ। আর এই ধর্মীয় ও পরিকাঠামোগত সংস্কারের তাগিদেই সাময়িকভাবে মূল গর্ভগৃহ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে মা তারার ঐতিহ্যবাহী বিগ্রহ।

সোমবার রাত ১০টার পর সমস্ত শাস্ত্রমতে পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় বিধি মেনে মা তারার মূল বিগ্রহকে গর্ভগৃহ থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে মন্দির প্রাঙ্গণেই অবস্থিত শ্রী শ্রী চন্দ্রচূড় শিব মন্দিরে। সংস্কার চলাকালীন সময়ে মায়ের সমস্ত নিত্যপূজা, আরতি, ভোগ নিবেদন এবং ভক্তদের দর্শন-সংক্রান্ত সমস্ত ধর্মীয় আচার সেখানেই অনুষ্ঠিত হবে।

কেন নেওয়া হলো এই সিদ্ধান্ত?

কৌশিকী অমাবস্যার মেগা উৎসবে প্রতিবছরই লাখ লাখ ভক্তের সমাগম হয় তারাপীঠে। উৎসব চলাকালীন ভক্তদের ভিড়ের কথা মাথায় রেখেই অমাবস্যা মেটার পরেই এই কাজ শুরুর পরিকল্পনা আগেই সাজিয়ে রেখেছিল মন্দির পরিচালনা কমিটি। বিশেষ করে দূরের অঞ্চল থেকে আসা প্রবীণ ও বয়স্ক পুণ্যার্থীরা যাতে সহজেই এবং স্পষ্টভােব মায়ের দর্শন পেতে পারেন, সেই সুবিধার্থেই মন্দিরের একাধিক পরিকাঠামোগত পরিবর্তন ও সৌন্দর্যায়ন করা হচ্ছে।

কবে আবার নিজের মূল আসনেই ফিরবেন মা?

মন্দির কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় এক মাস ধরে চলবে এই আধুনিকীকরণ ও মূল দরজার সংস্কারের কাজ। সমস্ত পরিকাঠামোগত কাজ শেষ করে আসন্ন শারদোৎসবের ঠিক আগে— মহালয়ার দিন বা তার আগেই পূর্ণ মর্যাদায় মা তারাকে আবার তাঁর মূল গর্ভগৃহে পুনর্প্রতিষ্ঠা করা হবে।

বিগ্রহ স্থানান্তরিত হলেও মায়ের পুজো দেওয়া বা দর্শনে ভক্তদের জন্য কোনো বাধা থাকছে না। নিয়ম মেনেই চন্দ্রচূড় শিব মন্দির থেকে ভক্তরা পুজো দিতে ও মায়ের করুণা লাভ করতে পারবেন।