পাহাড়ের কোলে লুকিয়ে কোন গোপন স্বর্গ! বাঁকুড়ার এই অচেনা অফবিট জায়গায় সপ্তাহান্তে উপচে পড়ছে ভিড়

পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রে বাঁকুড়া বলতেই মূলত খাতড়া, ছাতনা, জঙ্গলমহল কিংবা ঐতিহাসিক বিষ্ণুপুরের নামই সাধারণ মানুষের মনে প্রথমে ভেসে ওঠে। অথচ বাঁকুড়া শহরের খুব কাছেই এমন একটি চমৎকার এবং কম পরিচিত ব্লক রয়েছে, যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধন তৈরি করেছে। বাঁকুড়া শহর হয়ে হেবির মোড় ধরে মেজিয়ার রাস্তা ধরে মাত্র ১৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করলেই পৌঁছে যাওয়া সম্ভব মনোরম গঙ্গাজলঘাটি ব্লকে। যাঁদের মন সবুজে ঘেরা পাহাড়, ঝরনা এবং নির্জনতার টানে আকুল হয়, তাঁদের জন্য বর্ষার মৌসুমে এই গন্তব্য এক পরম পাওয়া।

গঙ্গাজলঘাটিতে প্রবেশ করার পর লক্ষণপুর রোড ধরে সোজা প্রায় ১১ কিলোমিটার এগোলেই দেখা মিলবে নিঝুম রাজা মেলা গ্রামের। এই গ্রামের ঠিক内ই লুকিয়ে রয়েছে এক অচেনা ও নাম না জানা পাহাড়। দূর থেকে দেখলে এটিকে একটি সাধারণ সবুজ ঘাসে ঢাকা ছোট টিলা বলে মনে হতে পারে, কিন্তু এর আসল রূপ লুকিয়ে রয়েছে একেবারে কাছে গেলে। এই টিলার প্রবেশপথেই রয়েছে একটি সুদৃশ্য ফটক, যেখানে খোদাই করা রয়েছে ‘মা নাচন চণ্ডী পাহাড়’। পাহাড়ের প্রবেশদ্বারে রয়েছে সুন্দর পাকা সিঁড়ি, যার দু’পাশ ঘন সবুজ জঙ্গলে ঘেরা। এই স্নিগ্ধ ও মায়াবী পরিবেশ যে কারও মন কেড়ে নিতে বাধ্য।

পাহাড়ের গায়ে ধাপে ধাপে গড়ে উঠেছে দুটি পবিত্র মন্দির—একটি মা নাচন চণ্ডীর প্রাচীন মন্দির এবং অন্যটি সম্প্রতি নির্মিত আকর্ষণীয় বিষ্ণু মন্দির। সিঁড়ি বেয়ে আরও ওপরে উঠলে চোখে পড়বে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এক সমতল ছোট্ট ভ্যালি। সেখান থেকে একটি ছোট পাথরের রাস্তা দিয়ে মাত্র কয়েক ফুট উপরে উঠলেই পৌঁছে যাওয়া যায় পাহাড়ের মূল চূড়ায়। এই চূড়া থেকে চারপাশের দূর-দূরান্তের প্রাকৃতিক দৃশ্য এককথায় অসাধারণ দেখায়। বিশেষ করে বর্ষার দিনে এখান থেকে পড়ন্ত বিকেলের সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা এক স্বর্গীয় অনুভূতি দেয়। বর্ষার বৃষ্টিতে ধুয়ে চারিদিকের প্রকৃতি যখন এক নতুন রূপ ধারণ করে, তখন গঙ্গাজলঘাটির এই পাহাড়ি অঞ্চল এক জাদুকরি পরিবেশ সৃষ্টি করে।

পর্যটকদের থাকা এবং খাওয়ার সুবিধার জন্য পাহাড়ের ঠিক নীচেই রয়েছে ‘মা নাচন চণ্ডী অতিথি নিবাস’-এর সুব্যবস্থা। ফলে থাকা-খাওয়ার কোনো বাড়তি চিন্তা না করেই উইকেন্ডে ঘুরে আসা যায় এই অফবিট লোকেশনে। শহরের যান্ত্রিক ব্যস্ততা ও কোলাহল থেকে দূরে দুদিনের জন্য যদি মনকে শান্ত করতে চান, তবে ব্যাগপত্র গুছিয়ে এখনই চলে আসুন বাঁকুড়ার এই অনাবিল সৌন্দর্যের কোলে। বাঁকুড়ার এই মনসুন স্টাইলে আপনার ছুটির প্রতিটি মুহূর্ত সেজে উঠবে এক অজানা প্রশান্তিতে।