৭৫ শতাংশ উপস্থিতির নিয়ম ঘিরেই ধুন্ধুমার! সুরেন্দ্র কলেজে জবরদস্তি পদত্যাগ আর রাজনৈতিক যোগের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজের উপাধ্যক্ষ মহম্মদি তরন্নুমকে জোর করে পদত্যাগ করানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি ও শিক্ষামহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ২৩ ঘণ্টা ধরে তাঁকে আটকে রেখে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন পড়ুয়ারা। এমনকি জোর করে তাঁর কাছ থেকে পদত্যাগপত্রে সই করিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন তিনি। তবে সমস্ত হুমকি ও চাপকে উপেক্ষা করে ঘটনার মাত্র তিন দিন পরেই তিনি ফের কলেজে ফিরে কাজে যোগ দেওয়ার কথা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ তুলেছেন যে শিক্ষাঙ্গনে ফের জাঁকিয়ে বসছে পুরনো দিনের সেই ভয়ের সংস্কৃতি বা ‘থ্রেট কালচার’।

সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলে মহম্মদি তরন্নুম স্পষ্ট ভাষায় জানান যে তাঁকে বলপূর্বক ইস্তফাপত্রে সই করাতে বাধ্য করা হলেও তিনি আইনি বা দাপ্তরিকভাবে কোনও পদত্যাগ করেননি। তিনি বলেন, “আপাতত একদিনের মেডিক্যাল লিভ নিয়েছি। শরীর ঠিক হলেই আমি সরাসরি অফিস যাব।” এরপরই বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মচারী—সকলকে প্রকাশ্যেই থ্রেট দেওয়া হচ্ছে। আগের মতো সেই একই জিনিস আবার ফিরে আসছে। অনেকে ক্লাস করতে চায় না, কলেজে আসতে চায় না, অথচ নিয়মমতো বেতন ঠিকই তুলে নিতে চায়। তারা ঠিক এই কায়দাতেই কলেজ চালাতে চাইছে।” শুধু তাই নয়, এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে রাজনৈতিক যোগের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কানকাটা দেবু ওরফে দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ করে বলেন, “দেবু পালিয়ে গেলেও তার বাহিনী এখন বিরোধীদের ছাতার তলায় আশ্রয় নিয়েছে।”

অন্যদিকে, আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীরা উপাধ্যক্ষের ইস্তফা দাবির বিষয়ে এখনও নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। বিক্ষোভরত এক পড়ুয়ার সাফাই দিয়ে জানান, “চারিদিকে অপপ্রচার করা হচ্ছে যে আমরা নাকি ক্লাস ফাঁকি দিতে চাই। বার কাউন্সিলের কড়া নির্দেশিকা অনুযায়ী ৭৫ শতাংশ উপস্থিতির নিয়মের ভয়ে আমরা নাকি ভাইস প্রিন্সিপালের পদত্যাগ চাইছি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। আমাদের এই আন্দোলন ও প্রতিবাদ কোনওভাবেই উপস্থিতি সংক্রান্ত নিয়ম বাতিলের বিরুদ্ধে নয়।”

মূলত কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে উপস্থিতির হার নিয়ে সম্প্রতি একটি নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। আর সেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ্যে আসতেই পড়ুয়াদের ক্ষোভ ও বিক্ষোভ চরমে পৌঁছায়। ওই নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে ৭৫ শতাংশ উপস্থিতি বাধ্যতামূলক না থাকলে কোনও পড়ুয়াই সেমেস্টার পরীক্ষায় বসতে পারবে না। এরপর থেকেই পরীক্ষার সুযোগ চেয়ে আন্দোলন শুরু করেন ছাত্রছাত্রীরা। অন্যদিকে উপাধ্যক্ষের দাবি, এই গোটা বিক্ষোভ ও বিশৃঙ্খলার পিছনে এবিভিপি (ABVP)-র মতো ছাত্র সংগঠনের হাত রয়েছে।

কলেজ চত্বর থেকে বেরিয়ে আসার পর মহম্মদি তরন্নুম আরও ভয়ংকর সব তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, “আমাকে একটি অন্ধকার ঘরে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা হয়েছিল। ঘরের সমস্ত আলো ও ফ্যান বন্ধ করে রাখা হয়েছিল যাতে আমি চরম মানসিক ও শারীরিক চাপের মুখে ভেঙে পড়ি।” জোর করে পদত্যাগপত্রে সই করানোর এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে তিনি আইনি লড়াইয়েরও ইঙ্গিত দিয়েছেন। সব মিলিয়ে, হাজিরা সংক্রান্ত নিয়ম এবং রাজনৈতিক উত্তাপের জেরে সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজের অন্দরমহলের এই কোন্দল এখন সর্বস্তরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।