আমেরিকায় ড্রিমগার্লের মর্মান্তিক পরিণতি! ভারতীয় তরুণীকে দিনের আলোয় গুলি করে খুন করল বখাটে যুবক

আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের রাজধানী স্যাক্রামেন্টোর একটি ব্যস্ত শপিং সেন্টারের বাইরে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক তরুণীকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গোটা প্রবাসী মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (DHS)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত হলেন ২২ বছর বয়সি এক ভারতীয় যুবক, যার নাম রোহিত। সে গত কয়েক মাস ধরে নিহত ৩৮ বছর বয়সি শালিণী ঠাকুরকে একটানা বিরক্ত ও stalking করে আসছিল। ক্যালিফোর্নিয়ার এই মর্মান্তিক ঘটনায় মার্কিন প্রশাসন ও অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ডিএইচএস সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত রোহিত ২০২৩ সালে বেআইনিভাবে অ্যারিজোনা সীমান্ত দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিল এবং সেই সময় মার্কিন বর্ডার পেট্রোল তাকে আটক করলেও পরবর্তীতে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। নিহত শালিণী ঠাকুর স্যাক্রামেন্টোর একটি জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ ‘আইএইচওপি’ (IHOP)-এ ওয়েট্রেস হিসেবে কাজ করতেন। পেশাগত সূত্রে খাবার ডেলিভারি নেওয়ার সময় রোহিতের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল। কিন্তু পরিচয় পর্বের পরেই রোহিত তাঁর প্রতি আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং ২০২৫ সাল থেকে শালিণীকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, অভিযুক্ত রোহিত তরুণীর অজান্তেই তাঁর ঘরের চাবির নকল তৈরি করে নেয় এবং তিনি যখন গভীর রাতে ঘুমিয়ে থাকতেন, সেই সুযোগে সে চুপিসারে ঘরে ঢুকে পড়ত। এমনকি আদালতের কড়া নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সে শালিণীর পিছু ছাড়েনি এবং জুলাই মাসের শেষের দিকে তাঁর বাড়ির দরজায় জোরপূর্বক নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রেখে আসছিল।
পুলিশ এবং সিসিটিভি ফুটেজ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন রোহিত শালিণীর গাড়ির কাছে ওত পেতে বসেছিল। শালিণী যখন প্রাণভয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তখন রোহিত তাঁর পিছু ধাওয়া করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে একাধিক গুলি চালায়। তরুণী মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পরেও ওই বখাটে যুবক ঠান্ডা মাথায় তাঁর মাথার খুব কাছ থেকে পুনরায় গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে এবং নিজের গাড়িতে চেপে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা ভিডিও ফুটেজ দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন যে, যেভাবে জনসমক্ষে একজন তরুণীকে ধাওয়া করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত অমানবিক ও অবিশ্বাস্য। এই ঘটনার পর থেকেই মার্কিন মুলুকে কর্মরত ভারতীয় নারী ও প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।