৫০০ টাকার জিনিস ৫০% ছাড়ে বিক্রি! অনলাইন শপিংয়ের এই বড় প্রতারণা বন্ধ করতে আসরে নামল সরকার

অনলাইন কেনাকাটার সময় ৫০%, ৭০% বা ৮০% পর্যন্ত লোভনীয় ছাড় দেখে কি আপনিও প্রায়ই বিভ্রান্ত হন? কিন্তু পেমেন্ট করার সময় দেখা যায় আসল সাশ্রয় সেই অনুপাতে হচ্ছে না। সাধারণ ক্রেতাদের সঙ্গে হওয়া এই কারসাজি ও ভুয়া ডিসকাউন্টের খেলা বন্ধ করতে এবার কঠোর পদক্ষেপ করতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। নতুন এই নির্দেশিকা কার্যকর হলে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলিকে পণ্যের দাম, বিশাল ছাড় এবং গুণগত মান সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে গ্রাহকদের সামনে তুলে ধরতে হবে।
ভোক্তা সুরক্ষা আইনের (Consumer Protection Act, 2019) অধীনে তৈরি করা Consumer Protection (E-Commerce) Rules, 2020-এ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী এনেছে সরকার। আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে দেশজুড়ে এই নতুন নিয়মগুলি বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর করা হবে। এর ফলে ই-কমার্স সংস্থাগুলি আর ইচ্ছামতো পণ্যের দাম বাড়িয়ে তারপর বিরাট ছাড়ের ভুয়া বিজ্ঞাপন দেখাতে পারবে না। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পণ্যে ছাড় ঘোষণা করলে সেই বর্তমান মূল্যের পাশাপাশি বিগত ৩০ দিনের মধ্যে সেই পণ্যের সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্যের ইতিহাসও পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করতে হবে।
শুধু দামের স্বচ্ছতাই নয়, সার্চ রেজাল্ট এবং স্পনসরড বা পেইড বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রেও একচ্ছত্র মনোপলি ভাঙতে চলেছে সরকার। কোনো ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইচ্ছেমতো সার্চ অ্যালগরিদম বদলে গ্রাহকদের ভুল পথে চালিত করতে পারবে না। কোনো প্রোডাক্ট সাধারণ সার্চে উপরে এসেছে নাকি সংস্থা টাকা দিয়ে স্পনসর করেছে, তা স্পষ্টভাবে ট্যাগ করে দেখাতে হবে। পাশাপাশি, গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করতে ব্যবহৃত ‘ডার্ক প্যাটার্ন’ (Dark Patterns, 2023)-এর ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং কোম্পানিগুলিকে প্রতি বছর নিজস্ব অডিট সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে।
গ্রাহকদের অধিকার সুরক্ষা ও জালিয়াতি রোধে অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়াকেও আরও সহজ ও শক্তিশালী করা হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ন্যাশনাল কনজুমার হেল্পলাইনে জমা পড়া মোট ১৭ লক্ষেরও বেশি অভিযোগের প্রায় ২৯ শতাংশই ছিল ই-কমার্স সংক্রান্ত। এবার থেকে কোনো গ্রাহক অভিযোগ জানালে কোম্পানির গ্রিভান্স অফিসারকে তার একটি অফিসিয়াল কপি দিতেই হবে। এছাড়া পণ্যের মেয়াদ (Best Before), রিটার্ন পলিসি, রিফান্ড, ওয়ারেন্টি এবং আমদানিকারক দেশের নামসহ সমস্ত নিখুঁত তথ্য আগে থেকেই স্পষ্ট করে দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।