“বিশ্বরাজনীতিতে আমেরিকার একাধিপত্য শেষ!”-ব্রিকসের মঞ্চ থেকে বড় বার্তা দিলেন মোদী

ব্রিকস সামিটের উদ্বোধনী ভাষণে বিশ্বমঞ্চে গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলিকে শক্তিশালী করার পক্ষে জোরালো সওয়াল করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উপস্থিতিতে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, উন্নয়নশীল দেশগুলিকে আর কেবল নিয়ম মেনে চলার ভূমিকায় সন্তুষ্ট থাকলে চলবে না, বরং তাদের নীতি নির্ধারণের মূল চালিকাশক্তি বা নিয়ম প্রণেতার আসনে বসতে হবে।

ভৌগোলিক কোনো নির্দিষ্ট সীমানা বা আনুষ্ঠানিক সংগঠনের নাম নয় ‘গ্লোবাল সাউথ’। মূলত এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, ক্যারিবিয়ান এবং ওশিয়ানিয়া অঞ্চলের যে সমস্ত উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশ একসময় পশ্চিমা শক্তির ঔপনিবেশিক শোষণের শিকার হয়ে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়েছিল, তাদেরই এই পরিভাষায় বোঝানো হয়। ভারত, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রভাবশালী দেশগুলি এই শিবিরের অন্তর্ভুক্ত। বছরের পর বছর ধরে বিদেশি শক্তির লুণ্ঠনের ফলে এই দেশগুলিকে স্বাধীনতা অর্জনের পরেও তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

বর্তমান বিশ্বে গ্লোবাল সাউথের গুরুত্ব অপরিসীম। পৃথিবীর জনসংখ্যার সিংহভাগ এই দেশগুলিতে বাস করে। শুধু তাই নয়, বিশ্ব অর্থনীতির চাকা ঘোরানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও এদের ভূমিকা নির্ণায়ক। তেল, গ্যাস, লিথিয়াম এবং তামার মতো অত্যাধুনিক খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এই অঞ্চলগুলির ওপরই নির্ভর করছে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি ও বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার।

বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ এবং বিশাল জনসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও এই দেশগুলি আজও দারিদ্র্য, ঋণের বোঝা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্বের অভাবের মতো সমস্যায় জর্জরিত। এই বৈষম্যের অবসান ঘটাতে দীর্ঘদিন ধরেই সোচ্চার হয়েছে নয়াদিল্লি। প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর ভাষণে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শুরু করে খাদ্য বা জ্বালানি নিরাপত্তা—প্রতিটি বিশ্ব সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে এই দেশগুলির ওপরেই। অথচ আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের মতামত এখনও উপেক্ষিত। এই ব্যবধান ঘুচিয়েই গ্লোবাল সাউথকে ভবিষ্যতের বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসার রূপরেখা টেনেছেন প্রধানমন্ত্রী।