গুণ্ডা দমন আইনের যথেচ্ছ অপব্যবহার! যোগী সরকারকে কড়া বার্তা এলাহাবাদ হাইকোর্টের

উত্তরপ্রদেশে গুণ্ডা দমন আইনের যথেচ্ছ অপব্যবহার করা হচ্ছে বলে কড়া অভিযোগ তুলেছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। একটি মামলার শুনানিতে উচ্চ আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, সরকার ইচ্ছামতো এই আইন প্রয়োগ করতে পারে না। কাউকে ‘গুণ্ডা’ ঘোষণা করার আগে প্রশাসনের সমস্ত দিক গভীরভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করা উচিত।
এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চের বিচারপতি সুভাষ বিদ্যার্থী একটি মামলার প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, সুদূর অতীতের অপরাধের অজুহাতে বর্তমান সময়ে কাউকে আচমকা গুণ্ডা ঘোষণা করা আইনসম্মত নয়।
সংশ্লিষ্ট মামলাটি উত্তরপ্রদেশের গোন্ডা জেলার। জাহিদ আলি নামে এক ব্যক্তিকে জেলা থেকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করার নির্দেশ জারি করেছিলেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গুণ্ডা দমন আইনের নির্দিষ্ট ধারা প্রয়োগ করেছিল পুলিশ। তবে হাইকোর্ট সেই নির্দেশ সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়ে জানিয়েছে, জেলা থেকে বহিষ্কারের মতো কঠোর আদেশে সই করার আগে ম্যাজিস্ট্রেটের আরও অনেক বেশি সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১২ মে জাহিদ আলিকে জেলা ছাড়া করার যে নির্দেশ জারি করা হয়েছিল, তাতে ২০১০ ও ২০২০ সালের দুটি পুরনো মামলার উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে আদালত দেখতে পায় যে, ২০১০ সালের মামলাটিতে অভিযুক্তকে ২০১৭ সালেই সসম্মਾਨ খালাস করে দিয়েছিল আদালত। বিচারপতির প্রশ্ন, যে মামলায় অভিযুক্ত বহু আগেই নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন, সেই একই মামলার সূত্র ধরে কী করে তাকে গুণ্ডা আইনে জেলা থেকে বহিষ্কার করা হলো? পাশাপাশি আদালত এও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ২০২০ সালের একটি অপরাধের জন্য দীর্ঘ ছয় বছর পর কারও বিরুদ্ধে আকস্মিক এমন কঠোর আইন প্রয়োগ করা যায় না।
আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই রায়ের ফলে উত্তরপ্রদেশ সরকারের অস্বস্তি যথেষ্ট বাড়ল। আইনি মহলের খবর, হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে রাজ্য সরকার। ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় অপরাধ দমনে অপরাধীর অতীতের ক্রিয়াকলাপের গুরুত্ব রয়েছে—এই যুক্তির ওপর ভর করেই আইনি লড়াইতে নামতে পারে প্রশাসন।