হরমুজ় বন্ধের মাঝেই রিয়াদ-মদিনার পাইপলাইনে পরপর ড্রোন হামলা! তেল বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া কোন শক্তি?

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। হরমুজ় প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ থাকার মধ্যেই রিয়াদ ও মদিনার কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ‘পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন’-এ জোরালো হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর পরেই চরম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা করেছে সৌদি আরব।

পাইপলাইনে হামলা ও বর্তমান পরিস্থিতি সৌদি আরবের পেট্রলিয়াম মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার দেশটির রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে অবস্থিত ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালানো হয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ (SPA)-র তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পাইপলাইনটির মাধ্যমে তেল সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। যদিও কারা এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে, তা নিয়ে সরকারিভাবে কোনো নির্দিষ্ট নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে প্রাথমিক সূত্রে ইরাক থেকে ড্রোন হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। পাশাপাশি একাংশ বিশেষজ্ঞ এই ঘটনার জন্য ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলছেন।

তেল সরবরাহে বিকল্প পথের সংকট ১৯৮০-এর দশকে নির্মিত ৭৫০ মাইল দীর্ঘ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। এটি সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় আবকাইক তেলক্ষেত্র থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল বহন করে। হরমুজ় প্রণালীতে হরদম জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়ার পর এই পাইপলাইনটিই সৌদি আরবের তেল রপ্তানি সচল রাখার প্রধান বিকল্প হয়ে উঠেছিল।

এরই মধ্যে বাব-আল-মান্দেব প্রণালীতে অবস্থিত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পেরিম বা মায়ুব দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। হরমুজ় প্রণালী এড়িয়ে লোহিত সাগরের এই রুটটি তেল ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান বিকল্প হলেও, হুথিদের সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছেন যে সৌদি আরবের জাহাজ ছাড়া বাকিদের জন্য এই পথ ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ থাকতে পারে। একের পর এক তেল পরিবহণ রুট এভাবে বিপদের মুখে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।