মাসের শেষে বিদ্যুৎ বিল দেখে আঁতকে ওঠেন? ছাদে এই ছোট্ট জিনিস বসালেই বাঁচবে হাজার হাজার টাকা!

বিদ্যুতের চড়া বিলের হাত থেকে স্বস্তি পেতে এবং মাসিক খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সাধারণ মানুষের জন্য দারুণ সুযোগ নিয়ে এসেছে কেন্দ্র সরকার। প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর যোজনার আওতায় বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করলে মাসিক প্রায় ২ হাজার টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় করা সম্ভব। আপনার বাড়িতে প্রতি মাসে ঠিক কত ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়, তার ওপর নির্ভর করেই নির্ধারিত হবে কত কিলোওয়াটের সোলার প্যানেল বসানো প্রয়োজন। এই পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী পদক্ষেপে শুধু বিদ্যুৎ বিলের হাত থেকেই মুক্তি মিলবে না, বরং সরকারের তরফ থেকেও মিলবে আকর্ষণীয় ভর্তুকি।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাঁদের বাড়িতে প্রতি মাসে ২০০ ইউনিটের কম বিদ্যুৎ খরচ হয়, তাঁরা ১ থেকে ২ কিলোওয়াটের সোলার প্যানেল বসাতে পারেন। একইভাবে, মাসিক ২০০ থেকে ৩০০ ইউনিট খরচ হলে ২ থেকে ৩ কিলোওয়াটের প্যানেল এবং ৩০০ ইউনিটের বেশি খরচ হলে ৩ কিলোওয়াট বা তার বেশি ক্ষমতার প্যানেল স্থাপন করা যেতে পারে। সোলার প্যানেল বসানোর প্রাথমিক খরচ কিলোওয়াট প্রতি আনুমানিক ৭০ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। তবে পুরো খরচ একা বহন করতে হবে না, কারণ প্রতি কিলোওয়াটে ৩০ হাজার টাকা করে ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার, যার সর্বোচ্চ সীমা ৭৮ হাজার টাকা পর্যন্ত।

হিসেব বলছে, প্রতি কিলোওয়াট সোলার প্যানেল বসাতে প্রায় ৬০ বর্গফুট জায়গার প্রয়োজন হয় এবং এর মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ১০০ ইউনিট বিদ্যুৎ বাঁচানো সম্ভব। ইউনিট প্রতি বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা ধরলে প্রতি কিলোওয়াট প্যানেলে প্রায় ৭০০ টাকা বাঁচবে। যাঁদের বাড়িতে ৩ কিলোওয়াট বা তার বেশি ক্ষমতার প্যানেল থাকবে, তাঁদের মাসিক সাশ্রয় প্রায় ২ হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছাবে। এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে সরকারি পোর্টাল https://pmsuryaghar.gov.in/-এ গিয়ে খুব সহজেই আবেদন করা যাবে। আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য পোর্টালে গিয়ে কনজ়িউমার অপশন বেছে নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে।

সঠিক ভেন্ডর বা সংস্থাও এই প্রক্রিয়ার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পোর্টালের রেজিস্টার্ড ভেন্ডর অপশনে গিয়ে রাজ্য ও জেলার নাম দিলেই সংশ্লিষ্ট এলাকার অনুমোদিত সংস্থাগুলির তালিকা পাওয়া যাবে। সেখান থেকে পছন্দের ভেন্ডর নির্বাচন করে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব। শুধু তাই নয়, ভর্তুকির বাইরে বাকি খরচের ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সুলভ সুদের হারে ব্যাঙ্ক লোন পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। গ্রিড সংযোগ স্থাপনের সঙ্গেই ভর্তুকির টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যায়। তাছাড়া, তফসিলি জাতি ও উপজাতি ভুক্ত গ্রাহকদের জন্য রাজ্য সরকারের তরফে অতিরিক্ত ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার সুযোগ রয়েছে। বিস্তারিত জানতে নিকটবর্তী কাস্টমার কেয়ার সেন্টারেও যোগাযোগ করা যেতে পারে।