৩০০০ টাকার ইএমআই-ই একদিন সর্বস্বান্ত করবে না তো? তরুণ প্রজন্মের ঘাড়ে কীভাবে চেপে বসছে ঋণের ফাঁদ!

আজকের দিনে গ্যাজেট থেকে শুরু করে গৃহস্থালির আসবাব—দ দামি জিনিস কেনার ক্ষেত্রে ‘ইএমআই’ বা সহজ কিস্তি এক অত্যন্ত জনপ্রিয় ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। পকেটে পুরো টাকা জমানোর অপেক্ষা না করে, সামান্য প্রতি মাসের কিস্তিতে পছন্দের জিনিস ঘরে তুলে নেওয়ার এই আকর্ষণ তরুণ প্রজন্মকে তীব্রভাবে টানছে। কিন্তু এই ছোট ছোট কিস্তির ফাঁদই যে অজান্তে এক বিরাট আর্থিক বোঝায় পরিণত হচ্ছে, তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে বহু তরুণ।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুসারে, ৩৫ বছরের কম বয়সি তরুণদের মধ্যে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ট্রান্সইউনিয়ন সিআইবিআইএল-এর তথ্য বলছে, গত ডিসেম্বরের ত্রৈমাসিকে তরুণ ঋণগ্রহীতার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার সিংহভাগই প্রথমবার ঋণ নিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, টিভি বা রেফ্রিজারেটরের মতো টেকসই ভোগ্যপণ্য কেনার জন্য ঋণ নেওয়ার হারও অনেকটা ঊর্ধ্বমুখী।

মাসের মোহে পড়ে ৩,০০০ বা ৪,০০০ টাকার একটি ছোট ইএমআই হয়তো প্রথমে খুব একটা বড় মনে হয় না। কিন্তু ল্যাপটপ, বাইক কিংবা নতুন ফোনের একাধিক কিস্তি একসঙ্গে জমতে শুরু করলেই মাসিক খরচের হিসেব ওলটপালট হয়ে যায়। অর্থনীতিবিদদের মতে, উপার্জনের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশের বেশি ইএমআই-এর জন্য বরাদ্দ করা উচিত নয়। অথচ অন্ধের মতো কিস্তির বোঝা ঘাড়ে নেওয়ায় সঞ্চয় এবং ভবিষ্যতের জরুরি খরচগুলো মার খাচ্ছে।

সহজ কিস্তিতে কোনো জিনিস পাওয়া মানেই তা সস্তা হওয়া নয়; বরং এককালীন বড় অঙ্ককে কিস্তিতে ভাগ করে অতিরিক্ত সুদ সহ পরিশোধ করা। তাই ভবিষ্যতের বিপদ এড়াতে শখ ও প্রয়োজনের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং অতিরিক্ত ঋণের হাত থেকে দূরে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।