লোডশেডিংয়ের চরম বিপাকে পাঞ্জাব! তিনটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হতেই ধাক্কা খেল বিদ্যুৎ উৎপাদন

পাঞ্জাবে বিদ্যুৎ সংকট আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। কয়লার ঘাটতি এবং বেশ কয়েকটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গোটা রাজ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার আকস্মিক পদক্ষেপে রাজ্যের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একাধিক ইউনিট সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়, যার মধ্যে তালওয়ান্দি সাবো প্ল্যান্টের দুটি ইউনিটও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে উঠেছে যে, এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজ্যজুড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর। তালওয়ান্দি সাবোর মতো বড় বেসরকারি প্ল্যান্টের দুটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাঞ্জাবের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা এক ধাক্কায় ৪,৮০০ মেগাওয়াট থেকে কমে প্রায় ৩,৬৪২ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। এর ফলে প্রায় ১,২০০ মেগাওয়াটের বিপুল ঘাটতি তৈরি হয়েছে। শুধু তাই নয়, রাজপুরার বেসরকারি তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্রটিও গত কয়েকদিন ধরে ক্ষমতার অর্ধেকেরও কম শক্তিতে চলছে। একই দিনে রোপার সরকারি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং গোইন্দওয়ালের একটি ইউনিটও পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছিল। যদিও কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘ বিলম্বের পর লেহরা মহব্বত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের চতুর্থ ইউনিটটি পুনরায় চালু হওয়ায় সামান্য স্বস্তি মিলেছে।

বিদ্যুৎ সংকটের এই পরিস্থিতির নেপথ্যে মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে কয়লার অপর্যাপ্ত সরবরাহ। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল, ফলে সরবরাহ ব্যাহত হলেই প্ল্যান্টগুলো পূর্ণ ক্ষমতায় চলতে পারে না। দেশজুড়ে প্রায় ৫৮টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লার মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার খবর মিলেছে।

তবে আশার কথা হলো, সামগ্রিকভাবে দেশের কয়লার মজুত কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে এবং রাষ্ট্রায়ত্ত কোল ইন্ডিয়া লিমিটেড ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে কয়লার জোগান উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়িয়ে দিয়েছে। বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় দৈনিক উৎপাদন ও সরবরাহ দুই-ই ঊর্ধ্বমুখী। তা সত্ত্বেও পাঞ্জাবের স্থানীয় প্ল্যান্টগুলো বন্ধ থাকায় রাজ্যবাসীকে এখনই স্বস্তি দেওয়া যাচ্ছে না। কেন্দ্রগুলোর দ্রুত পুনর্চালনা এবং নিয়মিত কয়লার সরবরাহের ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনে পাঞ্জাবের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি।