খুশির উৎসব নিমেষে পরিণত হল বিষাদে! বেগুসরাইয়ের কৃষ্ণজন্মাষ্টমীর মেলায় কেন হুড়োহুড়ি পড়ে গেল?

উৎসবের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হলো চরম আতঙ্কে। বিহারের বেগুসরাই জেলার চেরিয়া বরিয়ারপুর এলাকায় শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত এক মেলায় একটি ভুয়া গুজবকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ও হুড়োহুড়ি ছড়িয়ে পড়ে। এই আকস্মিক পদদলন সদৃশ পরিস্থিতিতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন পুণ্যার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঠিক কী ঘটেছিল মেলায়?
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জন্মাষ্টমী উপলক্ষে ওই চত্বরে একটি বিশাল মেলার আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটেছিল। ঠিক সেই সময়ই মেলার একটি বড় ঝোলার কাছে থাকা সুরক্ষামূলক ব্যারিকেড হঠাৎ করে ভেঙে পড়ে। এই ছোট ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যে মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে যে—মেলার প্রধান ঝোলাটিই ভেঙে পড়েছে! আর এই খবর ছড়াতেই উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আতঙ্কিত জনতা নিজেদের বাঁচাতে হুড়মুড়িয়ে এদিক-ওদিক ছুটতে শুরু করেন। পালানোর এই হুড়োহুড়িতে বহু মানুষ একে অপরের ওপর পড়ে যান, যার ফলে ভিড়ের চাপে অনেকেই মারাত্মকভাবে আঘাত পান। কিছুক্ষণের মধ্যেই গোটা মেলা চত্বর জুড়ে কান্নাকাটি ও চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়ে যায়। মেলার একাধিক কাউন্টার এবং ব্যারিকেডও সম্পূর্ণ ভেঙে গুঁড়িয়ে যায়।
প্রশাসনের সতর্কতা ও বর্তমান পরিস্থিতি
ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে জনস্রোতের মতো মানুষকে প্রাণভয়ে পালিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে। খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ঝোলা ভেঙে যাওয়ার খবরটি সম্পূর্ণ একটি গুজব ছিল। শুধুমাত্র সামান্য ব্যারিকেড ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে শান্ত করা হয়। তবে এই আকস্মিক ঘটনায় মেলায় উপস্থিত শিশু ও নারীদের মধ্যে ত্রাসের সৃষ্টি হয় এবং বহু মানুষ আতঙ্কিত হয়ে মেলা ছেড়ে বাড়ি ফিরে যান। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।