জালিয়াতি করে প্রপার্টি দখলের চেষ্টা! আদালতের রায় মাথা পেতে নেওয়ার পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট থেকে কী অদ্ভুত নির্দেশ পেলেন ছেলে?

সম্পত্তি সংক্রান্ত এক পারিবারিক বিবাদের শুনানিতে অত্যন্ত কড়া ও নজিরবিহীন বার্তা দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। জাল নথিপত্র তৈরি করে বাবা-মায়ের সম্পত্তি জবরদখল করার চেষ্টার অভিযোগে এক ছেলেকে তীব্র ভর্ৎসনা করার পাশাপাশি আদালত তাকে নির্দেশ দিয়েছে যে, সে যেন অবিলম্বে নিজের মায়ের পা ছুঁয়ে তার সমস্ত অপরাধ ও পাপের জন্য ক্ষমা চেয়ে নেয়।

ঠিক কী ঘটেছিল এই সম্পত্তি বিতর্কে?

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ওই প্রপার্টির একমাত্র আইনি মালিক ছিলেন বৃদ্ধ বাবা-মা। তাঁরা দয়া করে নিজেদের ছেলেকে ও তার স্ত্রীকে বিনা ভাড়ায় বাড়ির প্রথম তলে লাইসেন্সধারী হিসেবে থাকার অনুমতি দিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগ ওঠে যে, সুযোগ বুঝে সেই ছেলেই নিজের স্ত্রীর সঙ্গে মিলে বাবা-মাকে নানাভাবে হেনস্থা করতে শুরু করে এবং জোরপূর্বক সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখে নেওয়ার জন্য চাপ দেয়। এখানেই শেষ নয়, জাল দলিল ও নথিপত্র বানিয়ে ওই প্রপার্টির মালিকানা দাবি করতে শুরু করে তারা।

ছেলের এমন অমানবিক আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে অবশেষে বাধ্য হয়ে সংবাদপত্রে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে ছেলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেন দম্পতি। পাশাপাশি ছেলের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করে লাইসেন্স বাতিল করা হয় এবং বাড়ি খালি করার নোটিশ পাঠানো হয়। এর পরই সম্পত্তি ফিরে পেতে এবং ক্ষতির ক্ষতিপূরণ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন অসহায় বাবা-মা।

ট্রায়াল কোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট: এক নজরে আইনি লড়াই

  • নিম্ন আদালত ও হাইকোর্ট: ট্রায়াল কোর্টের বিচারক স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ওই সম্পত্তির একমাত্র মালিক হলেন বাবা-মা এবং ছেলে ও তার স্ত্রী কেবল লাইসেন্সধারী মাত্র, যাদের লাইসেন্স সঠিক নিয়ম মেনেই বাতিল করা হয়েছে। ফলে তাদের বাড়ি খালি করতেই হবে। পরবর্তীতে এই রায়ের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেও গত ১৭ এপ্রিল হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায়কেই বহাল রাখে।

  • সুপ্রিম কোর্টের রায়: হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধেও হাল ছাড়েনি অভিযুক্ত ছেলে, এবং সে সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মা এবং বিচারপতি এন.কে. সিংয়ের বেঞ্চ এই আবেদন খারিজ করে দেয়।

শুনানি চলাকালীন বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মা অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আদালতে আবেদন করার আগে ওই ছেলের উচিত অবিলম্বে নিজের মায়ের কাছে যাওয়া, তাঁর পা ছুঁয়ে ক্ষমা চাওয়া এবং সমস্ত ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করা। এমনকি আদালতের উপস্থিত এক আইনজীবীকে ডেকেও বিচারপতির প্রশ্ন করেন যে, একজন সন্তানের এমন জঘন্য কাজ কি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য? সব মিলিয়ে, আদালতের এই কড়া বার্তা ও মানবিক পর্যবেক্ষণ এখন গোটা দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।