ক্ষমতায় এসেই অতিরিক্ত ৮ দিনের ছুটির বাম্পার অফার! ২০২৭-এর নির্বাচন জিততে উত্তরপ্রদেশে কোন মাস্টারস্ট্রোক দিলেন অখিলেশ যাদব?

উত্তরপ্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচন এখনও বেশ কিছুটা দূরে থাকলেও, রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ এখন থেকেই চড়তে শুরু করেছে। সমস্ত রাজনৈতিক দলই ভোটারদের মন জয় করতে নিত্যনতুন কৌশল নিয়ে ময়দানে নামছে। এই আবহে সমাজবাদী পার্টির (সপা) জাতীয় সভাপতি অখিলেশ যাদব এমন এক চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক ঘোষণা করেছেন, যা সরাসরি সরকারি কর্মচারী থেকে শুরু করে রাজ্যের বিভিন্ন জাতি ও সামাজিক গোষ্ঠীর ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে চলেছে।
কী ঘোষণা করেছেন অখিলেশ যাদব?
অখিলেশ যাদব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ২০২৭ সালে রাজ্যে সমাজবাদী পার্টির সরকার গঠিত হলে বিভিন্ন মহানপুরুষ এবং ধর্মীয়-সামাজিক ব্যক্তিত্বদের জন্মবার্ষিকীতে সরকারি ছুটি ফের চালু করা হবে। এই তালিকায় সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল, নিषाদরাজ, ভগবান পরশুরাম, অবন্তীবাই লোধি, সম্রাট অশোক মৌর্য, মহারানা প্রতাপ এবং বিশ্বकर्मा জয়ন্তীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই সমস্ত বিশেষ দিনগুলিতে মোট ৮ দিনের অতিরিক্ত সরকারি ছুটি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে যোগী আদিত্যরাজ সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্কুল ও সরকারি ক্ষেত্রে এই ধরনের বেশ কিছু ছুটির দিন বাতিল করেছিল।
ছুটির আড়ালে মূলত কোন বড় জাঁতিগত অঙ্ক?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অখিলেশ যাদবের এই প্রতিশ্রুতির নেপথ্যে রয়েছে সুচিন্তিত জাতিগত সমীকরণের মারপ্যাঁচ। উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনে জাতপাতের রাজনীতি অত্যন্ত বড় একটি ভূমিকা পালন করে। ছুটির রাজনীতির এই বরশিতে একাতেই একাধিক বড় ভোটব্যাঙ্ক কব্জা করার ছক কষেছেন সপা প্রধান:
ব্রাহ্মণ ও রাজপুত ভোট: ভগবান পরশুরামের নামে ছুটির ঘোষণা দিয়ে ব্রাহ্মণ সমাজ এবং মহারানা প্রতাপের জয়ন্তীতে দুই দিনের ছুটির কথা বলে রাজপুত ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
পিছিয়ে পড়া ও অন্যান্য সম্প্রদায়: নিषाদরাজ ও সম্রাট অশোকের নাম যুক্ত করে নিষাদ ও মৌর্য সমাজ তথা অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণিগুলিকে (OBC) বার্তা দিয়েছেন অখিলেশ। এ ছাড়া অবন্তীবাই লোধির মাধ্যমে লোধি সমাজ এবং বিশ্বकर्मा জয়ন্তীর মাধ্যমে কারিগর সম্প্রদায়কে এক ছাতার তলায় আনার কৌশল নেওয়া হয়েছে।
সরকারি কর্মচারীদের মন জয় করার কৌশল
এই পুরো প্রতিশ্রুতির আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সরকারি কর্মচারী মহল। যদিও মোট ভোটারের তুলনায় সরকারি চাকুরিজীবীদের সংখ্যা কম, তবুও তাদের পারিবারিক ও সামাজিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভোট বাক্সে এর বিরাট প্রভাব পড়ে। উত্তরপ্রদেশের প্রায় ২ শতাংশ ভোটার সরাসরি সরকারি চাকরির সঙ্গে যুক্ত। তাদের অতিরিক্ত ছুটির সুবিধা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে নিজের দলের দিকে টানার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে অখিলেশের।
অন্যদিকে, ২০১৭ সালে যোগী সরকার ছুটির বদলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে মহানপুরুষদের জীবন ও আদর্শ নিয়ে বিশেষ আলোচনা ও শিক্ষার ওপর জোর দিয়েছিল, যা নিয়ে অতীতেও বেশ বিতর্ক হয়েছিল। এবার সেই পুরনো ইস্যুকেই হাতিয়ার করে যোগী সরকারের সিদ্ধান্তকে উল্টে দিতে মাঠে নেমেছেন অখিলেশ যাদব। সব মিলিয়ে, ছুটির এই লোভনীয় তুরুপের তাস উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনী ময়দান কতটা উত্তপ্ত করে তোলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়!