বইমেলা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে! ইজরায়েলের বিরোধিতায় কোন নতুন কৌশল নিলেন এসএফআই নেতারা?

আসন্ন কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার থিম কান্ট্রি হিসাবে ইজরায়েলকে বেছে নেওয়ার প্রস্তাব ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক দানা বেঁধেছে। আন্তর্জাতিক এই সাংস্কৃতিক মঞ্চে ইজরায়েলকে থিম করার এই ভাবনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ময়দানে নেমেছে বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই (SFI)। সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বইমেলার পরিসরে প্যালেস্তাইনের মুক্তি সংগ্রাম এবং নির্যাতিত সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জোরালো বার্তা তুলে ধরা হবে।

এসএফআই রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে অভিযোগ করেছেন, প্যালেস্তাইনে ইজরায়েলের সামরিক অভিযানে হাজার হাজার নিরপরাধ শিশু ও সাধারণ মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হচ্ছে। অথচ এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকারের বর্তমান অবস্থান দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক বিদেশনীতির ধারার সঙ্গে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ। তাঁর দাবি, স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন ধরে ভারতের বিদেশনীতিতে প্যালেস্তাইনের মুক্তি সংগ্রামের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন এবং ইজরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বিরোধিতার অবস্থান ছিল। কিন্তু বর্তমান জমানায় আদানিদের ব্যবসায়িক স্বার্থ ও হাইফা বন্দরের বাণিজ্যিক সুবিধার্থেই সেই বিদেশনীতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে তোপ দেগেছে বাম ছাত্র নেতৃত্ব।

এই আবহেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, এসএফআই-এর মুখপত্র ‘ছাত্রসংগ্রাম’-এর স্টলটিকে প্রতিবাদের অন্যতম প্রধান মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা হবে। বাংলার ছাত্রছাত্রীদের ভারতের বিদেশনীতির ঐতিহাসিক পটভূমি ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন করতেই এই উদ্যোগ। প্রসঙ্গত, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে চলা এই বইমেলার মূল থিম হিসেবে ‘বন্দেমাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তিকে বেছে নেওয়া হয়েছে এবং থিম কান্ট্রি হিসেবে ইজরায়েলের নাম উঠে এলেও তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে এর আগেই এসএফআই-এর এই পাল্টা ‘প্যালেস্তাইন’ বার্তা বইমেলা শুরুর আগেই রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলেছে।