ইঞ্জেকশন বিঁধতেই রেগে আগুন! বনকর্মীকে আছড়ে ফেলল বিশাল চিতাবাঘ, রোমহর্ষক ঘটনার ভিডিও ভাইরাল

উদ্ধার অভিযান চালাতে গিয়ে চরম মৃত্যুর মুখোমুখি হলেন বন দপ্তরের কর্মীরা। জাতীয় সড়কের ওপর এক মারাত্মক আহত চিতাবাঘকে উদ্ধার করতে গিয়ে তৈরি হলো এক অভূতপূর্ব ও আতঙ্কের পরিবেশ। দ্রুগামী গাড়ির ধাক্কায় রাস্তায় কাতরাতে থাকা বিশাল চিতাটি আচমকা এক বনকর্মীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁকে মাটিতে ফেলে দেয়! হাড়হিম করা এই গোটা ঘটনাটির ভিডিও ফুটেজ ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল ভাইরাল হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে কর্ণাটকের দাবানগরে। জানা গেছে, একটি হাইওয়েতে দ্রুতগামী গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে পড়েছিল চিতাবাঘটি। খবর পেয়েই উদ্ধারকাজে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বন দপ্তরের একটি উদ্ধারকারী দল।

ঘুমপাড়ানি ওষুধ বিঁধতেই হামলা

প্রাণীটিকে নিরাপদে খাঁচাবন্দি করে পশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে চিকিৎসকরা ট্র্যাঙ্কুলাইজার বা ঘুমপাড়ানি ইনজেকশন দেন। কিন্তু অ্যানেস্থেসিয়ার ওষুধ পুরোপুরি কাজ করার আগেই প্রচণ্ড যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা চিতাবাঘটি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক বনকর্মীর ওপর সজোরে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাঁকে থাবা দিয়ে চেপে ধরে মাটিতে আছড়ে ফেলে।

সহকর্মীকে এমন বিভৎস বিপদে পড়তে দেখে একমুহূর্ত দেরি না করে বাকি বনকর্মীরা লাঠি হাতে এগিয়ে আসেন। প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে লাঠির সাহায্যে চিতাবাঘটিকে হটিয়ে আহত সহকর্মীকে উদ্ধার করেন তাঁরা। আক্রমণের পর বাঘটি কিছুটা দূরে গিয়ে রাস্তার পাশের ঝোপে গিয়ে আশ্রয় নেয়। পরবর্তীতে কৌশলে চিতাটিকে কাবু করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়। বর্তমানে সেটির পশু হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক ও ক্ষোভ

রেসকিউ অপারেশনের এই রোমহর্ষক দৃশ্য ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বন্যপ্রাণী উদ্ধারের কাজে পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম বা আধুনিক প্রযুক্তির অভাব এবং সাধারণ লাঠি ব্যবহারের জন্য অনেকেই বন দপ্তরের সমালোচনা করেছেন।

একই সঙ্গে, অনিয়ন্ত্রিত হাইওয়ে সম্প্রসারণ ও বন্যপ্রাণীদের বাসস্থান ধ্বংসের ফলে এভাবে বন্য প্রাণীদের জীবন বিপন্ন হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রাণীপ্রেমীরা। বনাঞ্চলের পাশ দিয়ে যাওয়া সড়কগুলোতে অবিলম্বে ‘ওয়াইল্ডলাইফ করিডোর’ (Wildlife Corridor) গড়ে তোলার জোর দাবিও উঠেছে।