‘শেকড় সহ উপড়ে ফেলব’-পরনে গেরুয়া, সঙ্গে সাধুসন্ত, যাদবপুরে দাঁড়িয়ে হুংকার দিলেন শুভেন্দু

গোলপার্ক থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর পর্যন্ত এক বিশাল পদযাত্রার সাক্ষী থাকল দক্ষিণ কলকাতা। গেরুয়া বসন পরে এই ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’র নেতৃত্ব দিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে জাতীয়তাবাদী চিন্তা এবং প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করার বার্তা দিতেই মূলত এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মিছিলের পুরোভাগে থাকা মুখ্যমন্ত্রীর পরণেও এদিন ছিল গেরুয়া পোশাক। পুরো রাস্তায় লাউডস্পিকারে গায়ত্রী মন্ত্র বাজাতে বাজাতে এগিয়ে চলে এই সুবৃহৎ মিছিল।
মিছিল ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কড়া পদক্ষেপ
যাদবপুরের এই রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আগের বারের ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছিল। তবে সমস্ত সতর্কতা এড়িয়ে গোলপার্ক থেকে শুরু হওয়া পদযাত্রা সোজা যাদবপুরে এসে পৌঁছায়।
নাগা সন্ন্যাসীদের উপস্থিতি ও সাগরমেলার সাধুদের সমাগম
গেরুয়াকে অসম্মান করা এবং দেশবিরোধী কার্যকলাপ চলছে—মূলত এই অভিযোগ তুলেই এদিন পথে নামে বিজেপি। ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ শীর্ষক এই মিছিলে দলে দলে যোগ দিতে দেখা যায় নাগা সন্ন্যাসীদের। সাধারণত সাগরমেলার সময় যে সমস্ত সাধু-সন্তদের উপস্থিতি চোখে পড়ে, তাঁদেরই অনেকে এদিন কলকাতার রাজপথে মিছিলে অংশ নেন। রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে আসা সাধুসন্তদের উপস্থিতি এই কর্মসূচিকে অন্য মাত্রা দেয়।
“গেরুয়ার অপমানের জবাব দিতে শপথ নিয়েছি”
পদযাত্রা শেষে যাদবপুরে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে হুংকার দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাধু-সন্তদের পাশে নিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিনি গেরুয়ার অপমানের জবাব দেওয়ার শপথ নিয়েছেন। পাশাপাশি, খুব শীঘ্রই যাদবপুরে বেদপাঠের একটি বিশেষ আসর বসবে বলেও ঘোষণা করেন তিনি। সমস্ত রাষ্ট্রবাদী মানুষকে সেই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, “আমি শপথ নিয়েছি, ঋষি অরবিন্দের এই ভূমি থেকে চরমপন্থী ভাবধারার শিকড় উপড়ে ফেলব। স্বামী বিবেকানন্দের এই পবিত্র মাটিতে শেষ পর্যন্ত গেরুয়াই থাকবে।”