তাবু টানানো মাঠ, নেই চেনা গ্যালারি! জাপানে গিয়ে মারাত্মক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে টিম ইন্ডিয়া?

জাপানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এশিয়ান গেমসে ভারতীয় ক্রিকেট দলকে যেসব অনন্য পরিস্থিতি ও কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে, তা নিয়ে বর্তমানে ক্রিকেট মহলে তীব্র আলোচনা চলছে। তবে ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনীল গাভাসকর মনে করেন যে, একে কোনো অজুহাত বা বড় সমস্যা হিসেবে না দেখে, বরং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে জয় ছিনিয়ে আনার মধ্যেই আসল রোমাঞ্চ নিহিত রয়েছে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর কোরোগি স্পোর্টস পার্কে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে ভারতীয় দল। মূলত বেসবল ও অন্যান্য খেলার জন্য পরিচিত এই মাঠে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা প্রচলিত ক্রিকেট স্টেডিয়ামের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা হতে চলেছে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সুনীল গাভাসকর খোলামেলাভাবে জানান যে, জাপান কোনো ঐতিহ্যবাহী ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ নয়। এখানকার পরিবেশ এবং ক্রিকেটপ্রেমী দর্শকদের উপস্থিতি ভারতের চিরচেনা মাঠগুলোর মতো হবে না। পিচ কেমন হবে, অনুশীলনের সুযোগ-সুবিধা কতটা উন্নত কিংবা আবাসন ব্যবস্থা কেমন—এসব বিষয়ে আগ বাড়িয়ে মন্তব্য করা কঠিন। তবুও গাভাসকরের মতে, ক্রিকেটের আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝে। ক্রিকেটাররা যখন ছোটবেলায় ক্লাবের হয়ে খোলামেলা মাঠে বা সাধারণ তাঁবুর তৈরি ড্রেসিংরুমে ম্যাচ খেলতেন, তখন তো আউটফিল্ড বা সুযোগ-সুবিধা সবসময় সেরা থাকত না। সেই কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জয়লাভ করাটাই এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ও বিশেষত্ব হতে চলেছে।
এশিয়ান গেমসের মতো এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টে ভারত যে পূর্ণ শক্তির দল পাঠিয়েছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন গাভাসকর। দলের ব্যাটিং লাইনআপ অত্যন্ত শক্তিশালী উল্লেখ করে তিনি জানান যে, দলের লোয়ার অর্ডারে অর্থাৎ ছ’ এবং সাত নম্বরে এমন কিছু বিস্ফোরক ব্যাটার রয়েছেন যারা অনায়াসে ১৪০ বা ১৫০-এর বেশি স্ট্রাইক রেটে রান তুলতে সক্ষম। এছাড়া জসপ্রিত বুমরাহর এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করা অত্যন্ত দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। কারণ নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে তার কিছুটা ম্যাচ প্র্যাকটিস ও বোলিং রিদম ফিরে পাওয়া খুবই জরুরি ছিল। শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইপিএলে অসাধারণ পারফর্ম করার সুবাদে আইয়ারের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। দেশের জার্সিতে নেতৃত্ব দেওয়ার গর্ব প্রতিটি ক্রিকেটারের জন্যই অত্যন্ত সম্মানের, তাই বাড়তি কোনো চাপ না নিয়ে তিনি নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারবেন।
তবে টুর্নামেন্টের তীব্র প্রতিযোগিতা সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে গাভাসকর জানান যে, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এই লড়াইয়ে পথটি একেবারেই সহজ হবে না। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ দারুণ ফর্মে রয়েছে, পাকিস্তান যেকোনো মুহূর্তে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে, শ্রীলঙ্কাও সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের ক্রিকেটে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং উদীয়মান দল হিসেবে আফগানিস্তানও যেকোনো অঘটন ঘটাতে সক্ষম। এই চার পরাশক্তি ছাড়াও নেপাল যেভাবে বিশ্বমঞ্চে পারফর্ম করছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। বিগত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেপাল যেভাবে ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল, তা প্রমাণ করে যে ছোট দলগুলোকে অবহেলা করার কোনো উপায় নেই। তাছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়াকে তাদের ঘরের মাঠে হারিয়ে বাংলাদেশ বুঝিয়ে দিয়েছে যে আধুনিক ক্রিকেটে যে কেউ যেকোনো দিন যেকোনো দলকে হারিয়ে দিতে পারে।