৭৮ দিনের বোনাস কি বাড়ছে এ বছর? জল্পনার মাঝেই বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে কেন্দ্র

উৎসবের মরশুম মানেই ভারতীয় রেলের কর্মীদের জন্য বাড়তি প্রাপ্তির আনন্দ। প্রতি বছর দুর্গোৎসব ও দীপাবলির আগে মোটা অঙ্কের বোনাস পান রেলের একটা বড় অংশ। চলতি বছরেও প্রায় এগারো লক্ষ রেলকর্মী এই বোনাসের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। আগামী অক্টোবরের প্রথম দিকেই বোনাস সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার।

কত টাকা বোনাস মিলতে পারে?

গত কয়েক বছর ধরে উৎসবের মরশুমে লাগাতার ৭৮ দিনের বোনাস পেয়ে আসছেন রেলকর্মীরা। চলতি বছরেও সেই ধারা বজায় রেখে ৭৮ দিনেরই বোনাস ঘোষণা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এর পুরো বিষয়টিই নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর। রেলের পক্ষ থেকে বোনাস ঘোষণার কয়েকদিনের মধ্যেই কর্মীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সেই টাকা জমা হয়ে যায়।

বোনাসের অঙ্ক কীভাবে হিসাব করা হয়?

অনেকেরই ধারণা থাকে যে ৭৮ দিনের বোনাস পাওয়ার অর্থ একটানা ৭৮ দিনের মূল বেতন হাতে পাওয়া। কিন্তু বাস্তবে হিসাবের পদ্ধতিটি আলাদা। রেলের প্রোডাক্টিভিটি লিঙ্কড বোনাসের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা হয়। রেলকর্মীদের বোনাসের হিসাব কষা হয় মাসে সর্বোচ্চ সাত হাজার টাকা বেতন ধরে। বহু বছর ধরে এই সর্বোচ্চ সীমা অপরিবর্তিত রয়েছে।

ওই সাত হাজার টাকাকে ভিত্তি ধরে হিসাব করলে ৭৮ দিনের বোনাসের সর্বোচ্চ অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় সতেরো হাজার নয়শ একান্ন টাকা। মজার বিষয় হলো, এই সীমা সবার ক্ষেত্রেই সমান প্রযোজ্য। অর্থাৎ, একজন টেকনিশিয়ান হেল্পার কিংবা তুলনামূলক অনেক বেশি বেতন পাওয়া একজন সিনিয়র লোকো পাইলট—উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ বোনাসের সীমা ওই একই থাকে। কর্মীর আসল বেতন যতই বেশি হোক না কেন, এই সীমার বাইরে বোনাসের পরিমাণ আর বাড়ে না।

কারা এই বোনাসের আওতায় আসেন?

মূলত রেলের নন-গ্যাজেটেড কর্মীরাই এই উৎসবের বোনাসের সুবিধা পান। এই তালিকার মধ্যে রয়েছেন ট্র্যাকম্যান, লোকোপাইলট, গার্ড, স্টেশনমাস্টার, সুপারভাইজার, টেকনিশিয়ান, হেল্পার, পয়েন্টসম্যান এবং অন্যান্য গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি কর্মীরা।

তবে এই বোনাসকে কেন্দ্র করে পুরনো কিছু ক্ষোভ ও দাবিও দীর্ঘদিনের। রেলের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ফেডারেশন দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছে যেন এই সাত হাজার টাকার ঊর্ধ্বসীমা হয় তুলে দেওয়া হোক, না হয় বাড়ানো হোক। ইউনিয়নের যুক্তি, বছরের পর বছর এই সীমা একই জায়গায় আটকে থাকলেও কর্মীদের বাস্তব বেতন অনেকটাই বেড়েছে। উৎপাদনশীলতার ভিত্তিতে দেওয়া বোনাস কর্মীদের প্রকৃত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত বলে মনে করেন তাঁরা। পুরনো অঙ্ককে ভিত্তি করে বোনাস হিসাব করায় কর্মীরা অনেক ক্ষেত্রেই ন্যায্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হন। ফলে চলতি বছরে এই ঊর্ধ্বসীমা আদৌ বাড়ানো হয় কিনা, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে রেলের লক্ষাধিক কর্মীর।