তেলের ট্যাঙ্কারে হামলার বদলা! জলের তলদেশ থেকে আমেরিকার ‘স্মার্ট’ সাবমেরিন ছিনিয়ে নিল IRGC?

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতময় পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। ইরানের তেলের ট্যাঙ্কারে মার্কিন হামলার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর পাল্টা জবাব হিসেবে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা চালায় ইরান। এই যখন পরিস্থিতি, ঠিক তখনই আমেরিকার একটি অত্যাধুনিক এবং স্বয়ংক্রিয় সাবমেরিন বাজেয়াপ্ত করার চাঞ্চল্যকর দাবি করল ইরান। ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এই বাজেয়াপ্তকরণের কথা প্রকাশ্যে এনেছে এবং সাবমেরিনটির ছবিও সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেছে।
IRGC-র মুখপত্র ‘সেপাহ নিউজ’-এর তরফে জানানো হয়েছে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর প্রবেশপথের জলের নিচ থেকে একটি শ্বাসরুদ্ধকর বিশেষ অভিযানে ‘ডাইভ-এলডি’ (Dive-LD) নামের ওই সাবমেরিনটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আমেরিকার এই স্বয়ংক্রিয় ও ‘স্মার্ট’ সাবমেরিনটি সম্পূর্ণ অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এবং এটি পরিচালনার জন্য একটি বড় জলযান বা সাবমার্সিবল প্ল্যাটফর্মের সহায়তা প্রয়োজন হয়। শুধু তাই নয়, হরমুজ আকাশসীমার উপর আমেরিকার একটি ‘এমকিউ-৯ রিপার’ (MQ-9 Reaper) ড্রোনও তারা গুলি করে নামিয়েছে বলে দাবি করেছে IRGC।
এই ঘটনার পরই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন সেনার তরফে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় জানানো হয়েছে যে, সম্প্রতি জলের নিচে তাদের একটি সাবমেরিন কারিগরি ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে গিয়েছিল। তবে তাতে কোনো স্পর্শকাতর গোয়েন্দা তথ্য বা গোপন রাডার সরঞ্জাম ছিল না বলেই দাবি মার্কিন মহলের। যদিও IRGC-র বাজেয়াপ্ত করা সেই সাবমেরিনটিই তাদের বিকল হওয়া যান কি না, সে বিষয়ে পেন্টাগন সরাসরি কিছু স্পষ্ট করেনি। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, শত্রুপক্ষের ওপর নজরদারি চালানো এবং প্রাণের ঝুঁকি না নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করার জন্যই এই ধরনের আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর সাবমেরিনের ওপর জোর দিচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
প্রতিরক্ষা প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘অ্যান্ডুরিল’ (Anduril)-এর তথ্য অনুযায়ী, ‘ডাইভ-এলডি’ নামের এই সাবমেরিনটি একবার জলের নিচে নামলে একটানা ১০ দিন পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে অভিযান চালাতে সক্ষম। সমুদ্রের প্রায় ১৯,৭০০ ফুট গভীরে গিয়েও সুনির্দিষ্ট কাজ করার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে এই বিশেষ সাবমেরিনটির। প্রতিটি ডাইভ-এলডি সাবমেরিনের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ২৪ কোটি টাকার সমান। হরমুজ প্রণালীর এই জলসীমায় আমেরিকা ও ইরানের এই সরাসরি দ্বৈরথ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন কোনো যুদ্ধের ইঙ্গিত কি না, এখন সেটাই দেখার।