কথায় কথায় ভুলে যাচ্ছেন ছোটখাটো জিনিস? বড় বিপদের আগে এই লক্ষণগুলো এড়িয়ে যাবেন না!

আপনি যদি প্রায়ই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভুলে যান বা অতীতের ঘটনা মনে করতে অসুবিধার সম্মুখীন হন, তবে আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়ার সময় এসেছে। এই ভুলে যাওয়ার প্রবণতা থেকে পরবর্তীতে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ রোগ দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিমেনশিয়ার লক্ষণ দেখা দেওয়াটা খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি কিংবা যারা নিয়মিত ধূমপান করেন, তাদের ক্ষেত্রে ডিমেনশিয়া হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বেশি থাকে।
এরই মধ্যে, জাপানে পরিচালিত একটি চমৎকার গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যেসব বয়স্ক ব্যক্তি রান্নাঘরের বিভিন্ন কাজে নিয়মিত সক্রিয় থাকেন, তাঁদের মধ্যে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) বিস্তারিত নির্দেশনায়ও স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধ এবং ধূমপান বর্জনের মাধ্যমে ডিমেনশিয়ার মারাত্মক ঝুঁকি অনেকাংশেই কমানো সম্ভব।
ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ এমন একটি স্বাস্থ্যগত অবস্থা যা সাধারণত বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে এবং এটি বংশগত কারণেও হতে পারে। তবে কিছু বিষয় নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে—যেমন রক্তচাপের ওঠানামা, ডায়াবেটিস, স্থূলতা, ধূমপান এবং কায়িক পরিশ্রমহীন অলস জীবনযাপন (যেমন দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, অতিরিক্ত টিভি দেখা, মদ্যপান বা ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইলে রিলস দেখা)—আপনি ডিমেনশিয়ার সূত্রপাত আট থেকে দশ বছর পর্যন্ত পিছিয়ে দিতে পারেন। এছাড়া মাত্রাতিরিক্ত দূষণ, অপর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপও এই রোগের তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি বয়সের কারণে শ্রবণ বা দৃষ্টিশক্তির সমস্যা দেখা দিলে হিয়ারিং এইড বা চশমা ব্যবহার না করা, পুষ্টির অভাব এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট, রেড মিট, হিমায়িত খাবার বা জাঙ্ক ফুড খাওয়ার অভ্যাসও বিপদ ডেকে আনে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন কিছু শেখার অভ্যাস ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে। মস্তিষ্ক নিষ্ক্রিয় থাকলে এই অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। যদি আপনার সুনির্দিষ্ট কোনো শখ না থাকে, তবে নতুন রান্না করা শিখতে পারেন, যা মস্তিষ্ককে সর্বদা সজাগ ও কর্মক্ষম রাখে। এছাড়া নতুন ভাষা বা কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শেখা, এবং প্রতিদিন নিয়মিত সংবাদপত্র ও বই পড়া দারুণ উপকারী। সকাল-বিকেলের হাঁটা, সাইক্লিং, যোগব্যায়াম এবং শরীরচর্চাও মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখে। পরিমিত মাত্রায় খাঁটি সর্ষের তেল, দেশি ঘি, অলিভ অয়েল এবং হলুদে থাকা ‘কারকিউমিন’ উপাদানটি এই রোগের বিরুদ্ধে বিশেষ সুরক্ষা দেয়। সবচেয়ে বড় কথা, ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখা এবং সামাজিক যোগাযোগ রক্ষা করা ডিমেনশিয়া প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।