চিনে হড়পা বানে নিখোঁজ ভারতীয়দের উদ্ধারে বড় পদক্ষেপ! পরিচয় জানতে এবার নেওয়া হচ্ছে ডিএনএ নমুনা

চিনে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ধস এবং হড়পা বানের ঘটনায় নিখোঁজ ভারতীয় নাগরিকদের পরিচয় সুনিশ্চিত করতে এবার অত্যন্ত কঠোর ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। নিখোঁজ ভারতীয়দের সঠিক পরিচয় শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ডিএনএ (DNA) নমুনা সংগ্রহের বিশেষ উদ্যোগ শুরু হয়েছে। চিনা কর্তৃপক্ষ নিখোঁজ ব্যক্তিদের ডিএনএ নমুনা গ্রহণে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করার পরই, বেজিংয়ে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলির কাছে দ্রুত নমুনা জমা দেওয়ার জন্য জরুরি আবেদন জানিয়েছে।
ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের নিখুঁত পরিচয় শনাক্ত করার জন্য তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ তথ্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আন্তর্জাতিক CODIS ফরম্যাটে জমা দিতে হবে। পরবর্তীতে ভারতীয় দূতাবাস সেই সংগৃহীত তথ্য সরাসরি সংশ্লিষ্ট চিনা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করবে। ডিএনএ নমুনার সঙ্গে কোনো নিখোঁজ ব্যক্তির নমুনার মিল পাওয়া মাত্রই চিনা প্রশাসন তৎক্ষণাৎ দূতাবাসকে অবগত করবে এবং দূতাবাস থেকে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারকে সেই মর্মে বিস্তারিত জানিয়ে দেওয়া হবে।
কার ডিএনএ নমুনা এই প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে, সে বিষয়েও বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নিখোঁজ ব্যক্তির বাবা-মায়ের রক্তের নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রথম অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। যদি বাবা-মা জীবিত না থাকেন, তবে তাঁর জীবনসঙ্গী তথা স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক। একাধিক সন্তান থাকলে নির্ভুল ফলাফলের জন্য সম্ভব হলে সকলেরই নমুনা জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যদি নিখোঁজ ব্যক্তির বাবা-মা কিংবা কোনো সন্তান জীবিত না থাকে, তবে ভাই-বোনদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। এমনকি বিশেষ প্রয়োজনে মাতৃকুল ও পিতৃকুলের অন্যান্য ঘনিষ্ঠ আত্মীয়, যেমন মামাতো, খুড়তুতো, খালাতো বা মাসতুতো ভাই-বোনের রক্তের নমুনাও গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে নিখোঁজ ব্যক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওই আত্মীয়ের রক্তমানের সম্পর্কের বিস্তারিত তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
ডিএনএ তথ্য কীভাবে এবং কী শর্তে জমা দিতে হবে, সে বিষয়েও দূতাবাস স্পষ্ট রূপরেখা দিয়েছে। ডিএনএ শনাক্তকরণের এই অত্যন্ত জটিল কাজের জন্য নিখুঁত STR data প্রয়োজন হবে। বিশেষ করে পুরুষ নিখোঁজ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে Y-STR data জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সমস্ত তথ্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে CODIS ফরম্যাটেই সংরক্ষণ করতে হবে। সংগৃহীত নমুনার প্রতিটি লেবেলে নিখোঁজ ব্যক্তির সঠিক জাতীয়তা, সম্পূর্ণ নাম এবং পাসপোর্ট নম্বরের পাশাপাশি ডিএনএ নমুনা প্রদানকারী পরিবারের সদস্যের নাম, তাঁর নিজস্ব পাসপোর্ট নম্বর এবং নির্দিষ্ট Sample ID স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। এই উদ্যোগের ফলে বহু নিখোঁজ ভারতীয় নাগরিকের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা খুব শীঘ্রই পরিষ্কার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।