“রাজধানীতে এমন বিপর্যয় বরদাস্ত করা হবে না!” সত্য নিকেতন কাণ্ডে দিল্লি হাইকোর্টের ভর্ৎসনায় তোলপাড় প্রশাসন!

দক্ষিণ দিল্লির সত্য নিকেতনে পাঁচতলা বহুতল ভবন ভেঙে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ জনে। রবিবার দুপুরে ঘটা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পিজি (PG) পড়ুয়াদের নিরাপত্তা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে এবার চরম ক্ষোভ প্রকাশ করল দিল্লি হাইকোর্ট। অন্যদিকে, রাজস্থানের ভিওয়াড়ি থেকে পলাতক বাড়ির মালিক হরিরাম গুপ্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রবিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় সাউথ ক্যাম্পাসের নিকটবর্তী সত্য নিকেতনের কয়েক দশকের পুরোনো ওই ভবনটি হঠাৎ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় বাড়িটির বেসমেন্টে মেরামতির কাজ চলছিল এবং ভবনটি ছেলেদের পেয়িং গেস্ট আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হতো। আচমকা এই ধসের জেরে বহু পড়ুয়া ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। খবর পেয়ে এনডিআরএফ, দিল্লি পুলিশ, দমকল বাহিনী এবং রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দল যৌথভাবে উদ্ধারকাজে নামে। সোমবারও দিনভর ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলেছে।
আদালতের কড়া নজর ও ভর্ৎসনা এই ভয়াবহ বিপর্যয় নিয়ে সোমবার দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি হয়। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, রাজধানী শহরে দু’বছর অন্তর এমন বিপর্যয় কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। রাজধানীর বিভিন্ন পিজি-তে মোট কত জন পড়ুয়া থাকেন এবং তাঁদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য চেয়ে কেন্দ্র, দিল্লি সরকার, এমসিডি (MCD) এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়কে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা বাকিদের দ্রুত উদ্ধারে প্রশাসনকে আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
মালিক গ্রেফতার ও তদন্তের নির্দেশ দুর্ঘটনার পর বাড়ির মালিক এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। মেরামতির কাজের সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে রাজস্থান থেকে মূল অভিযুক্ত হরিরাম গুপ্তকে পাকড়াও করার পর তাঁকে জেরা করে ঘটনার নেপথ্যের গাফিলতিগুলো খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।