তিস্তায় বড় ধস, কড়া সতর্কতা জারি! পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কালই উত্তরবঙ্গ সফরে মুখ্যমন্ত্রী!

উত্তর সিকিমের পাহাড়ে ভয়াবহ ধসের জেরে তিস্তা ও চ্যাকুং নদীর গতিপথ আংশিক অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি। যদিও বর্তমানে তিস্তা নদী পুনরায় স্বাভাবিক গতিতে প্রবাহিত হচ্ছে, তবুও একটানা বৃষ্টির জেরে নদী তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন। সার্বিক পরিস্থিতি সরজমিনে খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবারই উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।
ঠিক কী ঘটেছিল সিকিমে?
গত ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যবর্তী সময়ে উত্তর সিকিমের চুংথাং মহকুমার চ্যাকুং নদীর উপরাংশে একটি ভয়াবহ ধস নামে। নাগা বনাঞ্চলের নতুন নাগা-তোসা রাস্তা সংলগ্ন পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে পড়ে সরাসরি তিস্তা ও চ্যাকুং নদীর সঙ্গমস্থলে। পাহাড়ের মাটি ও পাথরে নদী দুটির গতিপথ সাময়িকভাবে আটকে যাওয়ায় তিস্তার জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়, যার ফলে স্থানীয় মহলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তবে মঙ্গন জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের যৌথ তৎপরতায় দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে নদীর জলস্তর স্বাভাবিক সীমার মধ্যেই রয়েছে এবং ভয়ের কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছে ওয়র্ট কমিশন। সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসনের যৌথ নজরদারিতে গোটা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গ সফর ও জরুরি প্রস্তুতি
নেপাল ও ওয়েনাড়ের সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মর্মান্তিক পরিণতি থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আর ঝুঁকি নিতে নারাজ রাজ্য সরকার। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পাহাড়ি এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ জনবসতি এবং ধসপ্রবণ অঞ্চলগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজেই মাঠে নামছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মঙ্গলবারের সফরসূচি অনুযায়ী, বাগডোগরা পৌঁছে কালিম্পংয়ে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে টাউন হলে পাহাড়বাসীর হাতে সরকারি সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা তুলে দেওয়ার পাশাপাশি একটি উচ্চপর্যায় প্রশাসনিক বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর। এরপর শিলিগুড়ির ‘উত্তরকন্যা’-য় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে দুর্যোগ মোকাবিলা ও আগাম প্রস্তুতি সংক্রান্ত একটি মেগা বৈঠক করবেন তিনি। দুর্যোগের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে নবান্নের এই তড়িঘড়ি পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।