চোখের নিমেষে ধূলিসাৎ ৭৫ শয্যার ছাত্রাবাস! দিল্লির প্রাণকেন্দ্রে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তীব্র শোক!

দিল্লির সত্য নিকেতনে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ও ভয়াবহ ভবন ধসের ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশন। রবিবারের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ছয়জন সাধারণ মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা গোটা রাজধানী জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

দিল্লিতে কর্মরত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ একটি বিশেষ বার্তায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি আমাদের অন্তরের অন্তস্তল থেকে গভীর সমবেদনা রইল। একইসঙ্গে যেসব আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তাঁদের প্রত্যেকের সুস্থতা কামনায় আমাদের প্রার্থনা ও সহমর্মিতা সর্বদা রয়েছে। এই কঠিন ও বিপর্যয়কর সময়ে, এই দুঃখজনক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ও সংকটাপন্ন সকল নারী, পুরুষ ও শিশুর পাশে থেকে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে ভারতীয় হাইকমিশন।

উল্লেখ্য, গত রবিবার দুপুরে দিল্লির স্বনামধন্য সাউথ ক্যাম্পাসের অত্যন্ত নিকটবর্তী সত্য নিকেতন এলাকায় একটি ছয়তলা বহুতল ভবন হঠাৎ করেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যে অন্তত ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। তাছাড়া, গুরুতর আহত অবস্থায় দু’জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং আরও বেশ কয়েকজন মানুষ ভবনটির ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার কাজের মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত মোট ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

মূলত দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের বসবাসের এক অন্যতম প্রধান ও জনবহুল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সত্য নিকেতন অঞ্চল। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রবিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ এই অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বছরের পুরনো এই জীর্ণ ভবনটিতে বেসমেন্টসহ মোট ৫টি উপরিতল ছিল। ভবনটির ভেতর ‘হোস্টেল ডেজ’ নামের একটি পুরুষদের পেয়িং গেস্ট (পিজি) আবাসন অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে পরিচালিত হতো, যেখানে একসঙ্গে প্রায় ৭৫ জন শয্যার ব্যবস্থা ছিল। রবিবারের এই আকস্মিক বিপর্যয় ছাত্রাবাস ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। উদ্ধারকারী দল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা বাকী মানুষদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।