পিএফ কাটার এই জাদুকরী হিসাব জানেন কি? না জানলে অবসরের পর বড় আফসোস হতে পারে!

বেসরকারি খাতের কর্মচারীদের জন্য প্রতি মাসের প্রথম তারিখে বেতনের বার্তা পাওয়াটা এক স্বস্তিদায়ক অনুভূতি। সরকারি চাকরির মতো এখানে নিশ্চিত কোনো পেনশন ব্যবস্থা না থাকলেও, মূল বেতন থেকে কাটা প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিএফ (PF) অবসরকালীন জীবনকে অনেকটাই সুরক্ষিত করে তোলে। এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO)-এর এমপ্লয়ি পেনশন স্কিম বা ইপিএস (EPS) বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য একটি অত্যন্ত শক্তিশালী আর্থিক সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। আপনি যদি খুব শীঘ্রই অবসর গ্রহণের কথা ভেবে থাকেন, তবে অবসরের পর ঠিক কত টাকা পেনশন পাবেন তা জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

অনেকেরই ধারণা যে, পিএফ অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া সম্পূর্ণ অর্থ কেবল একটি অবসর তহবিল, যা চাকরি শেষে এককালীন হাতে পাওয়া যায়। তবে এর আর্থিক কাঠামো কিছুটা ভিন্ন। মূল বেতনের একটি নির্দিষ্ট অংশ যেমন ইপিএফ অ্যাকাউন্টে জমা হয়, তেমনই নিয়োগকর্তার অবদানের একটি বড় অংশ অর্থাৎ ৮.৩৩ শতাংশ সরাসরি জমা হয় আপনার পেনশন তহবিল বা ইপিএসে। বার্ধক্যের আর্থিক ভিত্তি মজবুত করতে এই তহবিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে এই পেনশন পাওয়ার জন্য দুটি প্রধান শর্ত পূরণ করতে হয়। প্রথমত, কর্মীকে কমপক্ষে ১০ বছরের পেনশনযোগ্য চাকরি সম্পন্ন করতে হবে এবং দ্বিতীয়ত, পূর্ণ পেনশন তোলার জন্য বয়স অন্তত ৫৮ বছর হতে হবে।

পেনশনের হিসাব বোঝার জন্য কোনো পেশাদার আর্থিক উপদেষ্টা বা সিএ-এর কাছে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। ইপিএফও এর জন্য একটি অত্যন্ত সহজ ও স্বচ্ছ সূত্র তৈরি করেছে। সূত্রটি হলো— (পেনশনযোগ্য বেতন × মোট চাকরির বছর) ভাগ ৭০। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন, তা হলো ইপিএফও-র বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী পেনশন গণনার জন্য সর্বোচ্চ মাসিক বেতন ১৫,০০০ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। অর্থাৎ, আপনার মূল বেতন লাখ টাকার বেশি হলেও হিসাবের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫,০০০ টাকাই ধরা হবে। এছাড়া ‘মোট চাকরির বছর’ বলতে সেই সময়কালকে বোঝায়, যে সময়ে আপনি ইপএস অ্যাকাউন্টে নিয়মিত টাকা জমা করেছেন।

বিষয়টি একটি বাস্তব উদাহরণের মাধ্যমে পরিষ্কার করা যাক। ধরা যাক, কানহাইয়া নামের এক ব্যক্তির মোট ইপিএস অবদানের সময়কাল হলো ৩০ বছর। যেহেতু পেনশন গণনার জন্য বেতন সর্বোচ্চ ১৫,০০০ টাকায় সীমাবদ্ধ, তাই তাঁর হিসাবটি হবে ১৫,০০০ গুণ ৩০ ভাগ ৭০। এই সহজ হিসাব অনুযায়ী কানহাইয়ার মাসিক পেনশন দাঁড়াবে প্রায় ৬,৪২৮ টাকা। অর্থাৎ অবসরের পর তিনি প্রতি মাসে এই নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা নিশ্চিতভাবে পাবেন।

তবে মনে রাখবেন, এই স্কিমে বয়স একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যদি কানহাইয়া ৫৮ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা না করে ৫০ বছর বয়সেই আগাম পেনশন নেওয়া শুরু করেন, তবে তাঁকে বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। কারণ ইপিএফও-র নিয়ম অনুযায়ী, ৫৮ বছর বয়সের আগে পেনশন তুললে প্রতি বছর পেনশনের পরিমাণ ৪ শতাংশ হারে কমে যায়। তাই কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের সর্বোচ্চ সুফল পেতে সঠিক বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।