কলকাতার বাইরে প্রথমবার মেগা ডার্বির উত্তাপ! বারাসতের মাঠে নামছে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান, উপচে পড়বে ভিড়?

প্রায় দুই দশক পর কলকাতার গণ্ডি পেরিয়ে মেইডেন ডার্বির উত্তাপ সরাসরি আছড়ে পড়তে চলেছে বারাসতের মাটিতে। সোমবার অত্যন্ত টানটান উত্তেজনা ও কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শুরু হতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান ম্যাচ। শুধু একটি সাধারণ ফুটবল ম্যাচ নয়, বারাসতের বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গনে এই প্রথম এত বড় মাপের এবং হাই-ভোল্টেজ কোনও ঐতিহ্যবাহী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। যার জেরে বাংলার ফুটবলপ্রেমী মহলে চরম উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে।

বারাসতের বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গনের দর্শক ধারণ ক্ষমতা মাত্র ১২ হাজার হলেও, এই মেগা ডার্বির জাদুকরী টানে স্টেডিয়ামে এবং তার বাইরে ২০ হাজারের বেশি সমর্থক হাজির হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। ফলে একদিকে মাঠে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর ফুটবল মহারণ এবং অন্যদিকে শহরের রাজপথে উপচে পড়া ভিড়—সব মিলিয়ে সোমবার বারাসতবাসীর জন্য এক ঐতিহাসিক ও বিশেষ দিন হতে চলেছে।

ম্যাচটি সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার পাশাপাশি তীব্র যানজট নিয়ন্ত্রণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান সমর্থকদের গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে কাছারি মাঠ ও কিশলয় হোমের মাঠ। এছাড়া সোমবার দুপুর তিনটে থেকে বারাসতের ব্যস্ত কেএনসি রোডে সাধারণ মানুষের গাড়ি নিয়ে প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

রবিবার বারাসতের পুলিশ সুপার জে মারসি সাংবাদিক বৈঠক করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, স্টেডিয়ামের ভেতরে শুধুমাত্র বৈধ টিকিট এবং মোবাইল ফোন ছাড়া অন্য কোনো ধরনের অতিরিক্ত সামগ্রী নিয়ে প্রবেশের কোনো অনুমতি দেওয়া হবে না। দর্শকদের সুবিধার জন্য মাঠের ভেতরেই পর্যাপ্ত পানীয় জল ও জরুরি চিকিৎসার সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাই বাইরের কোনো খাদ্যবস্তু নিয়ে স্টেডিয়ামে ঢোকা যাবে না। ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ম্যাচ ঘিরে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সামান্যতম অবনতিও না ঘটে, তার জন্য ব্যাপক হারে পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

বারাসত পুলিশ জেলার সমস্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ আধিকারিকদের এই বিশেষ ডিউটির জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন থানার ইনস্পেক্টর ও ওসিদের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংবাদিক বৈঠকের পর পুলিশ সুপার জে মারসি সশরীরে বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গন পরিদর্শন করেন। ডার্বি ম্যাচের দিন বারাসতের কোন কোন রাস্তা কীভাবে সচল রাখা হবে, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সুনির্দিষ্ট রোড ম্যাপও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে সব উত্তেজনার মাঝেই একটা উদ্বেগের মেঘও তৈরি হয়েছে। ম্যাচের দিনই বারাসতের একাধিক স্কুল ও কলেজে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই, ডার্বির জেরে তৈরি হওয়া তীব্র যানজট এবং মাইকের আওয়াজ, ঘোষণা ও নিরাপত্তার কড়াকড়ির জেরে পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সমস্ত শঙ্কা, সতর্কতা ও জল্পনাকে পেছনে ফেলে এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা—কবে বারাসতের মাঠে বাঁশি বাজবে এবং ফুটবল জ্বরে কাঁপবে গোটা জেলা সদর।