রাজ্যে ডেঙ্গি আতঙ্ক তুঙ্গে! মানিকতলা ও বেলগাছিয়া বাস ডিপোয় হানা দিয়ে কি নির্দেশ দিলেন মন্ত্রী অর্জুন সিং?

রাজ্যে বর্ষার মরসুমে ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ তীব্র আকার ধারণ করার প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবার সরাসরি ময়দানে নেমে পড়লেন রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিং। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর অধিকারীর সঙ্গে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরেই এদিন তিনি শহরের একাধিক সংবেদনশীল এলাকা এবং পরিবহন কেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শনে বেরিয়ে পড়েন। মূলত বেলগাছিয়া এবং মানিকতলা বাস ডিপো সহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে জল জমার সমস্যা এবং সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতা খতিয়ে দেখতেই মন্ত্রীর এই আচমকা পদক্ষেপ। স্বাস্থ্য দফতরের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিগত কয়েকদিন আগেই রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়ে অন্তত সাতজনের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। শুধু তাই নয়, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে রাজ্যে নতুন করে প্রায় এক হাজার মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। এমনকি খোদ তিলোত্তমা কলকাতাতেও ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন উদ্বেগজনকভাবে বেড়েই চলেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ জুলাই পর্যন্ত রাজ্যে মোট ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা যেখানে ১৯৪৬ ছিল, তা হু হু করে বেড়ে গত ২৬ অগাস্ট গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজারে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের প্রায় পাঁচটি জেলায় এই মশাবাহিত রোগের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য দফতর।
পাশাপাশি, স্বাস্থ্যমন্ত্রকে পাঠানো রাজ্যের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে আরও জানানো হয়েছে যে, চলতি বছরের গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত গোটা রাজ্যে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার ৫০২ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে মারাত্মক প্লাসমোডিয়াম ফ্যালসিফেরাম ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যাই রয়েছে ১ হাজার ৬২ জন। এই ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য সংকটের আবহে মঙ্গলবার রাজ্য স্বাস্থ্য ভবনে একটি জরুরি উচ্চপর্যায় বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পরই মুখ্যমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, ডেঙ্গির মরসুম এখনও কাটেনি এবং আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সর্বস্তরে সমানভাবে কড়া নজরদারি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বিশেষ জোর দিয়ে বলেন যে, অগাস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসেই রোগের সংক্রমণ ছড়ানোর প্রবণতা সবচেয়ে বেশি থাকে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত টেস্টিং কিট মজুত রাখার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেছেন যে, সামান্য জ্বর হলেও তা অবহেলা করা চলবে না। বিশেষ করে দুদিনের বেশি জ্বর বা তীব্র তাপমাত্রা থাকলে বিনামূল্যে দ্রুত ডেঙ্গি পরীক্ষা করানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আক্রান্তদের পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষিত রাখা এবং সংবেদনশীল এলাকায় মশার লার্ভা ধ্বংস করতে নিয়মিত লার্ভানাশক ও ফগিং মেশিন ব্যবহারের কড়া নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এদিন পরিদর্শনের সময় বাস ডিপোগুলো ঘুরে দেখে কোথাও বৃষ্টির জল জমে রয়েছে কি না, তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখেন পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিং। ডিপো চত্বরে জল জমলে তা দ্রুত পরিষ্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তিনি তৎক্ষণাৎ কঠোর নির্দেশ দেন। বাস ডিপো পরিদর্শন শেষ করেই অর্জুন সিং সোজা চলে যান স্থানীয় ইএসআই (ESI) হাসপাতালে। বর্ষাকালে ডেঙ্গু ও অন্যান্য vector-borne রোগের প্রকোপ তীব্র আকার ধারণ করার আশঙ্কা থাকায় তিনি হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসা পরিকাঠামো এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা স্বচক্ষে খতিয়ে দেখেন। সাধারণ মানুষ, সাধারণ রোগী ও তাদের পরিবার যাতে কোনোভাবেই ডেঙ্গির ভয়াল কবলে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিশেষ ও কড়া নজরদারি বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন নোয়াপাড়ার বিধায়ক তথা রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী।