‘মায়ের যত্ন নাও’ বলার বদলে বস বললেন—হিসাব মিলবে তো? সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এই চ্যাট দেখলে রক্ত ফুটে উঠবে!

বাড়িতে গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা থাকা সত্ত্বেও, যখন আপনার কোনো প্রিয়জনকে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তখনও যদি কোনো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কাজ বা মাসিক লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন, তবে তা কেবল নিদারুণ পেশাদারিত্বের অভাব নয়, বরং চরম অমানবিকতারও পরিচয় দেয়। সম্প্রতি ইন্টারনেটে এমনই একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ভাইরাল হয়েছে, যেখানে এক কর্মচারীর মা হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন, আর বস মাসের শেষে বিক্রয় বা সেলস টার্গেট চূড়ান্ত করতে ব্যস্ত। কর্পোরেট জগতের এই চরম সংবেদনশীলতাহীন রূপটি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি নতুন এবং তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ঘটনাটি একটি উদীয়মান সফটওয়্যার কোম্পানির সহযোগী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক বিজনেস ডেভেলপমেন্ট এক্সিকিউটিভকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা শেয়ার করে ওই কর্মী জানান যে, কয়েক বছর আগে তার বাবা মারা গেছেন এবং বর্তমানে তার মায়ের স্বাস্থ্যও প্রায়শই ভেঙে পড়ে। সম্প্রতি হঠাৎ করে মায়ের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটায় তাকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। অফিসে উপস্থিত হতে না পারার মূল কারণ ব্যাখ্যা করে, ওই কর্মী গভীর রাতে অর্থাৎ ভোর ৩টায় পরিচালককে একটি বার্তা পাঠিয়ে তার অপারগতার কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন।
তবে এই চরম সংকটময় মুহূর্তে একজন অভিভাবক বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে একটু সহানুভূতি দেখানোর পরিবর্তে পরিচালক যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন, তা সত্যিই কল্পনাতীত। তিনি বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে উত্তর দিয়েছিলেন, “ঠিক আছে, কিন্তু এই মাসের হিসাব মেলানোর কী হবে?” শোকস্তব্ধ ও উদ্বিগ্ন কর্মচারীটি জানান যে তিনি ব্যবসার গুরুত্ব এবং কোম্পানির লক্ষ্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল, তবে তিনি ন্যূনতম এই প্রত্যাশা করেছিলেন যে বস অন্তত বলবেন, “আগে মায়ের যত্ন নাও; কাজের কথা পরে ভাবা যাবে।” পরিচালকের এই নির্মম ও উদাসীন উত্তরে কর্মচারীটি মানসিকভাবে অত্যন্ত গভীরভাবে বিচলিত হয়ে পড়েন।
শুধু তাই নয়, ওই কর্মী তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেছেন যে পরিচালক তার পারিবারিক টানাপোড়েন এবং কঠিন পরিস্থিতি সম্পর্কে আগে থেকেই সম্যকরূপে অবগত ছিলেন। এর পাশাপাশি, সময়মতো বেতন পরিশোধ না করা এবং কর্মীদের প্রাপ্য ইনসেনটিভ আটকে রাখার মতো অনৈতিক বিষয়েও তিনি মানসিকভাবে বেশ জর্জরিত ছিলেন। এই পুরো ঘটনাটি তাকে তীব্র আত্মদহনে ফেলে দেয় এবং তিনি ভাবতে বাধ্য হন যে, তিনি কি এই পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন, নাকি এটি সত্যিই আজকের কর্পোরেট জগতের একটি বিষাক্ত ও অসুস্থ কর্মপরিবেশের নিখাদ চিত্র।
এদিকে, এই ঘটনার বিবরণসহ স্ক্রিনশট অনলাইনে প্রকাশিত হতেই তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষিপ্ত নেটিজেনরা ওই ভুক্তভোগী কর্মীর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন এবং কর্পোরেট জগতের অমানবিক ও যন্ত্রসুলভ মনোভাবের তীব্র সমালোচনা করেছেন। এক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্তব্য করেছেন, “এই সমস্ত মানুষ লাভের আশায় তাদের সমস্ত মনুষ্যত্ব হারিয়ে ফেলেছে। মনে রাখবেন, যেকোনো চাকরির চেয়ে পরিবার সবসময় অনেক বেশি মূল্যবান।” অন্য একজন ব্যবহারকারী পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, “এমন বিষাক্ত এবং শোষক কোম্পানি অবিলম্বে বর্জন করা উচিত। দেশের বাজারে এখন এর চেয়ে অনেক ভালো কাজের পরিবেশ রয়েছে, যেখানে কর্মচারীদের যথাযথ সম্মান ও মূল্যায়ন করা হয়।”