দিল্লিতে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা! চারচাকার ধাক্কায় পিষে মৃত দম্পতি, চালক ধরা পড়তেই পর্দাফাঁস!

দিল্লির ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় একটি মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক বাইক আরোহী দম্পতি। একটি দ্রুতগামী চারচাকা গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সজোরে ধাক্কা লাগার ফলে ঘটনাস্থলেই মারাত্মক জখম হন ওই দু’জন। পরবর্তীতে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা রাজধানীজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং বেপরোয়া গাড়ি চালানো ও অতিরিক্ত গতির বলি হওয়ার এই ঘটনায় ফের প্রশ্নচিহ্ন উঠেছে দিল্লির ট্রাফিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর।
দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির ডিসিপি অমিত গোয়েল সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, গত ২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের আইওসি রেড লাইটের কাছাকাছি একটি গুরুতর পথ দুর্ঘটনা ঘটার খবর থানায় আসে। পুলিশ তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখতে পায় যে, একটি ক্ষতিগ্রস্ত মোটরবাইকের পাশে দুজন ব্যক্তি গুরুতর জখম অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। পুলিশ কালবিলম্ব না করে তাঁদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যায়, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানান যে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে যে মৃত ওই দম্পতির বয়স আনুমানিক ৪৫ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। তাঁরা উভয়েই লোধি রোডের এনডিএমসি (NDMC) দপ্তরে কর্মরত ছিলেন। প্রতিদিনের মতো কাজ শেষ করে তাঁরা নিজেদের মোটরবাইকে চড়ে দ্বারকার সেক্টর ১-স্থিত নিজ বাসগৃহে ফিরে যাচ্ছিলেন। সেই পথেই আইওসি রেড লাইটের কাছে বাইকটি হঠাৎ কোনো কারণে পিছলে যায়, আর সেই মুহূর্তেই পিছন থেকে আসা একটি চারচাকা গাড়ি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এসে সজোরে বাইকটিকে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষ এতটাই জোরালো ছিল যে দম্পতি ছিটকে রাস্তায় পড়ে মারাত্মকভাবে জখম হন।
এদিকে, ঘাতক গাড়িটির চালক দুর্ঘটনার পর পর ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উপস্থিত সাহসী পথচারী ও স্থানীয় লোকজন সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরবর্তীতে ক্ষুব্ধ জনতা গাড়িটি সমেত অভিযুক্ত চালককে দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়। খবর পাওয়া মাত্রই দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং নিহত দম্পতির মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনায় দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি এফআইআর (FIR) নথিভুক্ত করা হয়েছে। ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ হরিয়ানার ঝাজ্জরের বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সি গাড়িচালক ভূপেন্দ্রকে গ্রেফতার করেছে। অভিযুক্ত রোহিনী এলাকায় একটি দুধের দোকান চালান বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। বর্তমানে তাঁকে দফায় দফায় জেরা করা হচ্ছে। ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, সংঘর্ষের সময় গাড়িটির সঠিক গতি কত ছিল এবং চালকের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ওই এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত শুরু করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান রেকর্ড করা হচ্ছে এবং সমস্ত তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।