মহিলাদের কি শুধু ঘরের কোণেই আটকে রাখা উচিত? ইসলামিক পন্ডিতের মন্তব্যে কেরলে তুঙ্গে বিতর্ক!

কেরলের রাজনীতিতে নতুন করে এক তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশিষ্ট সুন্নি ইসলামিক পন্ডিত শেখ আবু বকর আহমেদ—যিনি কান্থাপুরম এ পি আবু বকর মুসলিয়ার নামেও পরিচিত—সম্প্রতি এক বিতর্কিত মন্তব্য করে দাবি করেছেন যে, নারীদের ঘরের চার দেয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত এবং তাদের কোনোভাবেই জনসমক্ষে বা পাবলিক প্লেসে আসা উচিত নয়। তাঁর এই চরম রক্ষণশীল বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কড়া ভাষায় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন। গত বুধবার রাজ্য ক্যাবিনেটের বৈঠকের পর একটি সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, ইসলামিক পন্ডিতের এই ধরনের মন্তব্য ইসলাম ধর্মের প্রকৃত ইতিহাসের সম্পূর্ণ ভুল ও বিকৃত ব্যাখ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত। আধুনিক এবং প্রগতিশীল কেরলের সামাজিক কাঠামোর সঙ্গে এই ধরনের পশ্চাৎপদ চিন্তাভাবনার বিন্দুমাত্র মিল নেই।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন ‘সমস্ত কেরালা জমিয়তুল উলেমা’র পক্ষ থেকে একটি বিতর্কিত সার্কুলার জারি করে বলা হয় যে, নারীদের জনসমক্ষে বা কোনো পুরুষদের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। এর পরেই কান্থাপুরম কোচির একটি ইসলামিক কনফারেন্সে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন যে, মহিলারা যদি ঘরের বাইরে স্বাধীনভাবে ঘোরাফেরা করেন, তবে তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর হতে পারে। এমনকি নারীদের সুরক্ষার আজব যুক্তি দিয়ে তাদের তুলনা করেন সোনা বা গহনার সঙ্গে। তাঁর দাবি, যেভাবে দামি সোনার হার সুরক্ষিত রাখতে বাক্সে বন্দি করে রাখতে হয়, ঠিক তেমনই নারীদেরও ঘরের ভেতরে নিরাপদে রাখা উচিত এবং ইসলামের পর্দা প্রথা এই কারণেই তৈরি করা হয়েছে।
এই চরম আপত্তিকর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী সতীশন জোর দিয়ে বলেন যে, নারীদের কখনোই ঘরের কোণে বন্দি করে রাখা উচিত নয়। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে, প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে নারীদের সমান অধিকার রয়েছে এবং তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া প্রগতিশীল সমাজ গঠন অসম্ভব। আমাদের সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ স্পষ্ট—নারীরা সমাজের প্রতিটি স্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। এদিকে, এই বিবাদ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে আইইউএমএল (IUML) সভাপতি সৈয়দ সাদিক আলী শিহাব থাঙ্গাল দাবি করেন যে, বর্তমান সমাজে নারীদের ওপর অপরাধ ও হেনস্থার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার কারণে হয়তো কান্থাপুরম সাহেব মেয়েদের ভালোর জন্যই এই বিধিনিষেধের কথা বলেছেন। তবে সামগ্রিকভাবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণের এই রাজ্যে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে।