জলের নিচে লুকিয়ে কোন ভয়ঙ্কর দানব? নেপাল থেকে ভেসে আসা এই মাছ দেখলে শিউরে উঠবেন

নেপালের প্রলয়ংকরী বন্যা ও পাহাড় ধসের জেরে ভারত-নেপাল সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদীর তীব্র জলোচ্ছ্বাস গণ্ডক নদীর মাধ্যমে সমতল বিহারে প্রবেশ করতেই জলের স্রোতে ভেসে এসেছে শত শত টন কাঠ, ধ্বংসাবশেষ, মৃতদেহ এবং তার সঙ্গেই ১০০ কেজি ওজনের রহস্যময় বিশাল সব জলচর প্রাণী। গোপালগঞ্জের মঙ্গলপুর ঘাট, বগহা ও বাল্মীকিনগরে জেলের জালে বা নদীর চরে এই দানবাকৃতির মাছগুলি ধরা পড়ার পরেই গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও কৌতূহল ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এই আকস্মিক ঘটনায় মৎস্যজীবীদের উল্লাস দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, কারণ বিহার সরকারের ডেইরি, মৎস্য ও পশুসম্পদ দফতর অবিলম্বে কড়া সতর্কবার্তা জারি করে সাধারণ মানুষকে এই মাছ কেনা, বিক্রি করা বা খাওয়ার বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মাছটি সাধারণ কোনো রুই-কাতলা নয়, বরং হিমালয়ের দুর্গম স্রোতস্বিনী নদীর গভীর তলদেশের ভয়ংকর মাংসাশী শিকারি প্রজাতি ‘বাগেরিয়াস ইয়ারেল্লি’, যা স্থানীয়ভাবে ‘গুঁছ’, ‘গোইতা’ বা ‘বাঘড়’ নামে সমধিক পরিচিত। অনেকে আবার একে ‘ডেভিল ক্যাটফিশ’ বা ‘জলের দানব’ বলেও অভিহিত করেন। মাছটির শারীরিক গঠন অত্যন্ত আতঙ্কজনক—চওড়া ও চ্যাপ্টা মাথা, পেছনের দিকে বাঁকানো সুচালো ও ধারালো দাঁত এবং শিকার শনাক্ত করার জন্য মুখে চার জোড়া সংবেদনশীল শুঁড় থাকে। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রবাহিত ও অক্সিজেনসমৃদ্ধ হিমালয়ী নদীর গভীরে বসবাসকারী এই মাছগুলি প্রচণ্ড পাহাড়ি ঢল ও বন্যার তোড়ে নিজেদের স্বাভাবিক বাসস্থান থেকে ছিটকে সমতলের শান্ত জলে এসে পৌঁছেছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগ মাছই বন্যার ঘোলা জলে ভেসে আসার পথে মারা গিয়েছে।
কিন্তু এই ভয়ংকর দানব আকৃতির মাছগুলির বিশাল ওজন এবং চলো বাজারে চড়া দাম পাওয়ার লোভে স্থানীয় মৎস্যজীবী ও সাধারণ ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। খবর এসেছে, এই বিপুল পরিমাণ মাছের একটি বড় অংশ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বাজারেও পাচারের উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছে। প্রশাসনের কড়া সতর্কবার্তা সত্ত্বেও মানুষ কেন এই মরণফাঁদ উপেক্ষা করে মাছগুলি সংগ্রহ করছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা। বন্যার নোংরা জল, মৃত পচাগলা প্রাণী এবং ধ্বংসাবশেষের মধ্যে বেঁচে থাকা এই মাংসাশী মাছের শরীরে মারাত্মক ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও বিষাক্ত ছত্রাক থাকার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। যা মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে জীবন সংশয় পর্যন্ত হতে পারে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার মাইকিং করে এবং প্রচার চালিয়ে সাধারণ মানুষকে এই অচেনা ও বিপদজনক মাছ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।