ঘরের উপর আছড়ে পড়ল আস্ত পাহাড়! গুয়াহাটিতে ভয়াবহ ধসে ঘুমন্ত পরিবারের ৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

প্রকৃতির এক ভয়াবহ ও নির্মম রূপ দেখল আসামের গুয়াহাটি শহর। সাম্প্রতিক সময়ে নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ভারী বৃষ্টির জেরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল গুয়াহাটির নুনমাটি এলাকা। পাহাড় ধসে ঘরের উপর আছড়ে পড়ল বিশাল আকারের পাথর। যার জেরে ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে একই পরিবারের তিন সদস্যের। মঙ্গলবার সকালে মঠঘরিয়া এলাকার লক্ষ্মী মন্দির সংলগ্ন অঞ্চলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা নাগাদ যখন গোটা এলাকা ঘুমে আচ্ছন্ন, তখনই এই বিপর্যয় ঘটে। মৃতদের তালিকায় রয়েছেন ৪৪ বছর বয়সি নগেন রাজবংশী, তাঁর স্ত্রী ৩৮ বছরের সানু রাজবংশী এবং তাঁদের ১২ বছরের শিশুকন্যা মিনা রাজবংশী। পাহাড়ের একাংশ ভেঙে ঘরের উপর ধসে পড়ায় ঘটনাস্থলেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে তাঁদের মৃত্যু হয়। তবে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার মাঝেও অলৌকিকভাবে বেঁচে গিয়েছে ওই দম্পতির ১৯ বছরের ছেলে বিপ্লব রাজবংশী। স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় বর্তমানে গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কামরূপ মেট্রোপলিটন জেলার জেলা কমিশনার স্বপ্নীল পাল জানিয়েছেন যে, পাহাড়ের পাদদেশের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলেই ওই পরিবারটি বসবাস করত। গত সোমবার রাত থেকেই গুয়াহাটিতে অবিরাম ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছিল। যার ফলেই পাহাড়ি মাটি আলগা হয়ে ভূমিধসের ঘটনা ঘটে এবং একটি প্রকান্ড পাথর সোজা ওই পরিবারের টিনশেড ঘরের উপর আছড়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে বাড়িটি সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। দুর্ঘটনার খবর পা মাত্রই রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF), পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকার্য শুরু করেন। উদ্ধার হওয়া মৃতদেহগুলি ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, যে জমিতে ওই পরিবারটি বসতি গড়ে তুলেছিল, তার কোনো বৈধ আইনি দলিল বা সরকারি অনুমতি ছিল না। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় এ ধরনের অবৈধ ও অপরিকল্পিত জনবসতি গড়ে ওঠার পিছনে কোন কোন প্রশাসনিক গাফিলতি রয়েছে, তা নিয়েও এবার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। উল্লেখ্য, সোমবার রাতের অবিরাম বর্ষণে গুয়াহাটির একাধিক নিচু এলাকা ইতিমধ্যে জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, লাগাতার এই বৃষ্টির ফলেই ভূমিধসের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক অতীতে গুয়াহাটি ও তার পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি অঞ্চলগুলিতে এ ধরনের ধসের কারণে একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও স্থায়ী সমাধানের পথ এখনও অধরা, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তাকে ফের একশো শতাংশ প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।