৯০০ উইকেটের ঐতিহাসিক মাইলফলক ছুঁয়েই বিধ্বংসী শামি! দলীপ ট্রফির ফাইনালে উঠতে মরিয়া পূর্বাঞ্চল

দুই বাংলার তারকা পেসারদের আগুনে বোলিংয়ের সুবাদে দ্বিতীয় ইনিংসে মধ্যাঞ্চলকে মাত্র ১৫৮ রানে প্যাকআপ করে দিল পূর্বাঞ্চল। প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও বল হাতে দুর্দান্ত সাফল্য বজায় রাখলেন টিম ইন্ডিয়ার অভিজ্ঞ পেসার মহম্মদ শামি। এদিন তিনি তুলে নেন গুরুত্বপূর্ণ ৩টি উইকেট। অন্যদিকে, বাংলার অপর পেসার মুকেশ কুমারও দুর্দান্ত বোলিং করে ঝুলিতে ভরেছেন ৪টি উইকেট। সবমিলিয়ে দুই পেসারের পেস আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়ে মধ্যাঞ্চলের ব্যাটাররা।

কোয়ার্টার ফাইনালে আশানুরূপ পারফর্ম করতে না পারার আক্ষেপ যেন এ দিন পুরোপুরি পুষিয়ে দিলেন মহম্মদ শামি। চলতি দুলীপ ট্রফি ২০২৬-এ খেলতে নেমে নিজের পেশাদার ক্রিকেট কেরিয়ারে এক বিরল ও স্মরণীয় মাইলফলক অর্জন করেছেন তিনি। পেশাদার ক্রিকেটে সব ফরম্যাট মিলিয়ে মোট ৯০০টি উইকেটের অনবদ্য গণ্ডি স্পর্শ করলেন এই তারকা পেসার। দুলীপ ট্রফির প্রথম সেমিফাইনালে ইস্ট জোনের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার সময় সেন্ট্রাল জোনের প্রথম ইনিংসে ২টি উইকেট শিকার করার মাধ্যমেই তিনি এই মহাকীর্তি গড়ে তোলেন। এর ফলে ভারতের মাত্র ষষ্ঠ বোলার হিসেবে পেশাদার ক্রিকেটে ৯০০টি উইকেট নেওয়ার এলিট তালিকায় নিজের নাম পাকাপাকিভাবে লিখিয়ে ফেললেন শামি।

এদিকে, দ্বিতীয় ইনিংসেও বল হাতে শুরু থেকেই দাপট দেখান শামি। ম্যাচের শুরুতেই তিনি সাজঘরে ফিরিয়ে দেন আরিয়ান জুয়ালকে। প্রথম ইনিংসে মধ্যাঞ্চলের হয়ে লড়াকু ৪৬ রান করা এই ব্যাটারকে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৮ রানেই প্যাভিলিয়নের রাস্তা দেখান বাংলার ‘স্পিডস্টার’। এরপর একে একে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন তিনি। তাঁর নিখুঁত পেস ও লাইন-লেংথের সামনে টিকতে পারেননি যশ রাঠোর এবং হর্ষ দুবে। বিশেষ করে, মধ্যাঞ্চলের ইনিংসের শেষ দিকে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করা বিপজ্জনক ব্যাটার হর্ষ দুবেকে আউট করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন শামি নিজে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও শামির পরিসংখ্যান অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও ঈর্ষণীয়। কেরিয়ারে এ পর্যন্ত ৬৪টি টেস্ট ম্যাচ খেলে ২৭.৭১ গড়ে ২২৯টি উইকেট (যার মধ্যে ৬ বার ৫ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে) ঝুলিতে ভরেছেন। পাশাপাশি, ১০৮টি ওয়ানডে ম্যাচে ২৪.০৫ গড়ে সংগ্রহ করেছেন ২০৬টি উইকেট এবং ২৭টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচেও গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেয়েছেন।

উল্লেখ্য, প্রথম ইনিংসে কাঙ্ক্ষিত লিড না পাওয়ায় দলীপ ট্রফির ফাইনালে সরাসরি পৌঁছতে হলে পূর্বাঞ্চলকে এই ম্যাচটি যেকোনো মূল্যে জিততেই হবে। এমতাবস্থায় মধ্যাঞ্চলকে কম রানে বেঁধে ফেলার ফলে পূর্বাঞ্চলের বোলাররা তাদের গুরুদায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন। এখন দেখার বিষয়, ফাইনালে ওঠার এই কঠিন লড়াইয়ে বাকি সময়টুকুতে দলের ব্যাটাররা কতটা দায়িত্ব নিয়ে ম্যাচ নিজেদের অনুকূলে আনতে পারেন।