নেপালের ওপর ফের ভয়ঙ্কর মেঘনাদের ছায়া! ৩৮ কোটি গ্যালন জলের টাইম বোমা ফাটলেই মানচিত্র থেকে মুছবে উপত্যকা?

ইতিমধ্যেই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও হড়পা বানের ক্ষতচিহ্ন পুরোপুরি শুকিয়ে ওঠার আগেই প্রতিবেশী দেশ নেপালকে ঘিরে ফের এক নতুন এবং চরম আশঙ্কার মেঘ ঘনাতে শুরু করেছে। চিনা উপগ্রহচিত্র এবং জলসম্পদ মন্ত্রকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, নেপাল-তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন হিমালয়ের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দুটি বিপজ্জনক অস্থায়ী জলাধার বা হ্রদ তৈরি হয়েছে, যেখানে জমা জলের পরিমাণ শুনলে পিলে চমকে যাওয়ার জোগাড়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, এই বিশাল জলরাশি যেকোনো মুহূর্তে আছড়ে পড়ে গোটা উপত্যকাকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

চিনের সরকারি সংবাদসংস্থা শিনহুয়া ও জলসম্পদ মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের ফলে প্রথমত একটি অস্থায়ী হ্রদ তৈরি হয়েছিল। সেখান থেকে জল উপচে নদীগুলির জলস্তর ইতিমধ্যেই বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আসল বিপদের কারণ হলো তারও বহু উঁচুতে প্রকৃতির নিয়মে তৈরি হওয়া আরও একটি নতুন ও অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রাকৃতিক জলাধার। ওই দ্বিতীয় জলাধারটি প্রথমটি থেকে প্রায় ৫.৬ কিলোমিটার উঁচুতে অবস্থিত এবং সেখানে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩৭ কোটি গ্যালন জল অবরুদ্ধ অবস্থায় জমে রয়েছে। সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, এই বিশাল জলরাশি নিষ্কাশিত হওয়ার কোনো পথ পাচ্ছে না। ফলে যে কোনো মুহূর্তে অতিরিক্ত চাপের কারণে ওই অস্থায়ী বাঁধ বা হ্রদটি ভেঙে গিয়ে এক তীব্র প্রলয়ঙ্করী হড়পা বানের সৃষ্টি করতে পারে।

এই সম্ভাব্য প্রলয়ের আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই নেপাল সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করেছে বেজিং। যদিও প্রথম হ্রদটি থেকে বর্তমানে নির্দিষ্ট গতিতে জল নিষ্কাশিত হওয়ায় তা সাময়িকভাবে বিপদমুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে, তবুও ওপরের জলাধারটির অতি ঝুঁকিপূর্ণ স্থিতি গোটা প্রশাসনকে উদ্বেগে রেখেছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা সামনে আসার পর থেকেই নেপালের জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ (NDMA) সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। সংবেদনশীল এবং বন্যাপ্রবণ উপত্যকা অঞ্চলগুলিতে কর্মরত সমস্ত উদ্ধারকারী দল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে যেকোনো আপৎকালীন পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত কয়েকদিনের প্রাকৃতিক তণ্ডবে এমনিতেই পর্যুদস্ত নেপালবাসী, তার ওপর এই নতুন টাইম বোমার ভ্রূকুটি জনজীবনে চরম আতঙ্ক তৈরি করেছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলের পাশাপাশি নেপালের প্রতিটি পদক্ষেপের দিকে গভীর নজর রাখা হচ্ছে।