দুর্গাপুজোয় থিম এবং আমিষ খাওয়া নিষিদ্ধ? বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নামে চলা ভুয়ো খবর নিয়ে বিস্ফোরক দাবি মহারাজের!

দুর্গাপুজোয় থিম করা যাবে না এবং মণ্ডপের আশেপাশে আমিষ খাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ—বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ধরনের একাধিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে। আর এই বিতর্কের মাঝেই সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে নিজেদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট করল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁদের বক্তব্যকে সম্পূর্ণ বিকৃত করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

সম্প্রতি কলকাতার ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজোর সাত্ত্বিক ভাবধারা ও পবিত্রতা বজায় রাখার লক্ষ্যে পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে একটি বৈঠক করে ভিএইচপি। এরপর একটি সাংবাদিক বৈঠকও করা হয়। সেই বৈঠকের পরেই বিতর্ক দানা বাঁধে। এই প্রসঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)-যুক্ত বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য স্বামী নির্গুণানন্দ ব্রহ্মচারী একটি ভিডিয়ো বার্তার মাধ্যমে জানান যে তাঁদের বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

থিম পুজোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি স্পষ্ট করেন যে, তাঁরা শিল্পকলা হিসেবে থিমের কোনো বিরোধী নন। তবে থিমের নামে ডিম বা জুতোর প্যান্ডেল কিংবা মূর্তির শালীনতা ও মাতৃত্বের ভাব বজায় না রেখে বিকৃত করার মতো অশাস্ত্রীয় ঘটনার বিরোধিতা করা হয়েছে মাত্র। পাশাপাশি আমিষ খাওয়ার বিতর্ক নিয়ে মহারাজ বলেন, মণ্ডপের মূল পবিত্রতা ও দিব্য পরিবেশ বজায় রাখতে মণ্ডপের ভিতর খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছিল, সামগ্রিক আমিষ নিষিদ্ধ করার কোনো কথা বলা হয়নি। বলি এবং ভোগের বিষয়টিও শাস্ত্রীয় পরম্পরা মেনেই হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ভিএইচপি’র দক্ষিণবঙ্গ প্রান্তের প্রচার প্রসার প্রমুখ রক্তিম দাসও এই বিষয়ে সুর চড়িয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, সংগঠনের পক্ষ থেকে কখনোই বলা হয়নি যে কোনো থিম পুজো করা যাবে না বা মণ্ডপের বাইরে সাধারণ মানুষের খাওয়াদাওয়ায় কোনো বাধা দেওয়া হবে। যাঁরা এই ধরনের তথ্য ছড়াচ্ছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে দাবি করেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।