লোডশেডিং থেকে মুক্তি পেতে সৌরবিদ্যুতে বড় হাঁটার পরিকল্পনা সরকারের! সামনে এল ৫টি বড় চ্যালেঞ্জ

তীব্র জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ের জেরে যখন নাজেহাল সাধারণ মানুষ, ঠিক তখনই বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে বড় পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ২০৪০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকে উৎপাদনে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে চলতি সরকারের মেয়াদে সৌর বিদ্যুতের সক্ষমতা এক লাফে ১০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

‘ছাদ থেকে গ্রিড’ নীতি ও নতুন পরিকল্পনা:

ধারাবাহিকভাবে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং গ্যাস আমদানির বাড়তি চাপের কারণে এবার ছাদকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। প্রতিটি ছাদকে মিনি বিদ্যুৎকেন্দ্রে রূপান্তর করতে ‘সোলার নেট মিটারিং’ ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে গ্রাহকরা নিজের বাড়িতে সোলার প্যানেল বসিয়ে নিজের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবেন, যা পরবর্তী সময়ে বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ে এলাকাভিত্তিক সার্ভিস প্রোভাইডার ও বিনিয়োগকারীদের তালিকা তৈরির কাজও শুরু করে দিয়েছে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো।

বিশেষজ্ঞদের চোখে যে ৫টি বড় চ্যালেঞ্জ:

সরকারের এই ambitious বা উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাকে সাধুবাদ জানালেও এর মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়ন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে প্রধানত পাঁচটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে:

১. বিশাল বিনিয়োগ ও অর্থায়ন: ৫০০ মেগাওয়াট সোলার প্যানেল বসাতে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ ছাদের প্রয়োজন এবং এর জন্য ৩০ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ দরকার। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এত বড় ঝুঁকি নিয়ে সহজে ঋণ দিতে রাজি হবে কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন।

২. দক্ষ কারিগরি সহায়তার অভাব: প্যানেল রক্ষণাবেক্ষণ ও স্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত ও দক্ষ টেকনিশিয়ান বা প্রশিক্ষিত কর্মীর সংকট রয়েছে।

৩. নীতিগত অস্পষ্টতা ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব: নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নে যে কৌশলপত্র তৈরি করা হয়েছে, তাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কাজের পরিধি ও জবাবদিহিতা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।

৪. মূল্য নির্ধারণ (Benchmark Price): উৎপাদিত বিদ্যুতের সঠিক দাম বা বেঞ্চমার্ক প্রাইস কত হবে এবং তা কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে, তার কোনো স্পষ্ট ও টেকসই মডেল এখনও তৈরি হয়নি।

৫. তদন্ত ও মনিটরিং ব্যবস্থা: রেজিস্টার্ড সার্ভিস প্রোভাইডারদের কাজ নিয়মিত অডিট করা এবং গ্রাহক পরিষেবা নিয়ে কোনো অনিয়ম হলে তার কড়া লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পনা যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন, বাস্তবায়নের আগে কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্বল্পসুদে ঋণের নিশ্চয়তা এবং সঠিক নীতি প্রণয়ন না করলে এই উদ্যোগ মাঝপথেই হোঁচট খেতে পারে।