সাড়ে ৩ বছর বয়স থেকে কসরত, থাইল্যান্ডের আন্তর্জাতিক যোগাসন প্রতিযোগিতায় ডাক পেল কাকদ্বীপের ৬ বছরের খুদে অনিমা!

কাকদ্বীপের এক প্রত্যন্ত গ্রামের ছয় বছরের ছোট্ট মেয়ে অনিমা বর্মন আন্তর্জাতিক যোগাসন প্রতিযোগিতায় দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়ে গোটা রাজ্যকে গর্বিত করেছে। কিন্তু এই গর্বের মুহূর্তের মাঝেই নেমে এসেছে গভীর উদ্বেগের কালো ছায়া। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা মর্যাদাপূর্ণ ‘এশিয়া প্যাসিফিক যোগাসন স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশিপ’-এ অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ পেলেও, চরম আর্থিক অনটনের জেরে থাইল্যান্ড যাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ছোট্ট অনিমার দু-চোখে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন থাকলেও, অভাবের তাড়নায় সেই স্বপ্ন এখন ফিকে হওয়ার উপক্রম হয়েছে। পরিবার ও এলাকাবাসী এখন সরকারি অথবা কোনো দাতা সংস্থার সাহায্যের দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে রয়েছেন।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ বিধানসভার নারায়ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের গণেশগরের বাসিন্দা অনিমা। তার এই সাফল্য কোনো সাধারণ ঘটনা নয়; মাত্র সাড়ে তিন বছর বয়স থেকেই সে কঠোর যোগাসনের প্রশিক্ষণ শুরু করেছিল। দীর্ঘ সাধনা ও একাগ্রতার ফলেই সম্প্রতি উত্তরাখণ্ডের রুড়কিতে আয়োজিত জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় সে দুর্দান্ত প্রদর্শন করে অষ্টম স্থান অধিকার করে। আর এই চোখধাঁধানো সাফল্যের পরেই তার ডাক আসে সরাসরি আন্তর্জাতিক মঞ্চে। কিন্তু মধ্যবিত্ত বা দিনমজুর পরিবারের পক্ষে বিদেশে যাওয়ার বিমানভাড়া ও আনুষঙ্গিক খরচ বহন করা আকাশকুসুম কল্পনার সমান।
অনিমার মা আল্পনা বর্মন অত্যন্ত আক্ষেপের সুরে জানান, “আমার মেয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে খেলার বিরল সুযোগ পেয়েছে, যা আমাদের কাছে অত্যন্ত গর্বের। কিন্তু বিদেশে নিয়ে যাওয়ার মতো বিন্দুমাত্র আর্থিক সামর্থ্য আমাদের নেই। আমরা চাই দেশের মাটিতে নয়, বরং বিদেশের মাটিতেও ও আমাদের দেশের নাম উজ্জ্বল করুক। সবাই একটু আশীর্বাদ করুন।” ছোট্ট অনিমাও সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানায়, “আন্তর্জাতিক স্তরে যোগা নিয়ে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছি। কিন্তু এই বিপুল খরচ বহন করা আমার পরিবারের পক্ষে অসম্ভব। সবাই আমাকে আশীর্বাদ করবেন, আমি যেন থাইল্যান্ডে গিয়ে দেশের পতাকা উড়িয়ে ফিরতে পারি।”
উল্লেখ্য, কাকদ্বীপেরই অপর এক প্রতিভাবান তরুণী দিশা শূর এই একই প্রতিযোগিতায় সিনিয়র ‘এ’ গ্রুপে ডাক পেয়েছিলেন, যাঁকে পরবর্তীতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছিল। এখন স্থানীয় বাসিন্দারা ও ক্রীড়াপ্রেমীরা আশা করছেন, ৬ বছরের এই বিস্ময় বালক বা প্রতিভাবান কন্যাটির ক্ষেত্রেও কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি বা প্রশাসন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে। চরম অভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করে বেড়ে ওঠা অনিমার এই থাইল্যান্ড যাত্রা শেষ পর্যন্ত সফল হয় কি না, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় গোটা কাকদ্বীপ তথা বাংলা।