পুজোর মুখে পকেটে টান! ১ সেপ্টেম্বর থেকে হু হু করে বাড়ছে অনলাইন অর্ডারের খরচ, মাথায় হাত মধ্যবিত্তের

সামনেই দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে উৎসবের মরসুম। আর এই পুজো বা উৎসবের আনন্দকে দ্বিগুণ করতে অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইন কেনাকাটাতেও মেতে ওঠেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু আপনিও যদি আসন্ন পুজোর মরসুমে অনলাইনে নতুন জামাকাপড়, গ্যাজেটস বা ঘরের জিনিসপত্র অর্ডার করার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবরটি আপনার জন্য বড়সড় ধাক্কা হতে পারে। আগামী দিনগুলিতে অনলাইনে যেকোনো পণ্য কেনা বা ডেলিভারি নেওয়া আপনার পকেটের ওপর বেশ ভারী পড়তে চলেছে। কারণ, দেশের অন্যতম প্রধান লজিস্টিকস এবং ডেলিভারি কোম্পানিগুলি তাদের শিপিং ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেওয়ার বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুধু তাই নয়, এই বর্ধিত লজিস্টিকস খরচের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব শেষ পর্যন্ত পণ্যের চূড়ান্ত মূল্যের ওপরও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এই নতুন নিয়ম এবং বর্ধিত চার্জ আগামী ১লা সেপ্টেম্বর থেকেই দেশজুড়ে একযোগে কার্যকর হতে চলেছে।
গ্রাহকদের কাছে পাঠানো লজিস্টিকস সংস্থাগুলির বিভিন্ন ইমেল মারফত জানা গিয়েছে যে, বর্তমান বাজারে পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সামগ্রিক খরচ লাগাতার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণগুলির মধ্যে রয়েছে জেট ফুয়েল বা বিমান জ্বালানির লাগামছাড়া দাম বৃদ্ধি, গ্রাউন্ড স্টাফ এবং ডেলিভারি বয়দের বেতন বা রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বৃদ্ধি এবং সার্বিক লজিস্টিকস সাপ্লাই চেনের ওপর মুদ্রাস্ফীতির প্রবল চাপ। এই সমস্ত প্রতিকূল পরিস্থিতি সামাল দিতেই আগামী ১লা সেপ্টেম্বর থেকে এক্সপ্রেস শিপমেন্টের ওপর প্রতি অর্ডারে অতিরিক্ত ৪ টাকা এবং সারফেস শিপমেন্টের ওপর প্রতি অর্ডারে অতিরিক্ত ২ টাকা করে চার্জ ধার্য করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সামগ্রিক ডেলিভারি খরচ প্রায় ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বিশেষ করে ৫০০ গ্রামের বেশি ওজনের ভারী পার্সেল বা প্যাকেজগুলির ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত চার্জ বেশ জোরালোভাবেই প্রযোজ্য হবে। উল্লেখ্য, এই নতুন চার্জগুলি সম্পূর্ণভাবেই প্রমিত ডেলিভারি ফি-এর ওপর অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত করা হবে। বর্তমানে সাধারণত পার্সেলের নিখুঁত ওজন এবং ডেলিভারির গন্তব্যের দূরত্বের ওপর ভিত্তি করেই মোট শিপিং খরচ নির্ধারিত হয়ে থাকে।
লজিস্টিকস সংস্থাগুলির এই নতুন সিদ্ধান্তের কারণে সরাসরি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে দেশের দ্রুত বর্ধনশীল ডাইরেক্ট-টু-কনজিউমার (D2C) ব্র্যান্ডগুলি। যে সমস্ত সংস্থা কোনো মধ্যস্থতাকারী পাইকার বা খুচরা দোকানের সাহায্য না নিয়ে সরাসরি নিজেদের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গ্রাহকদের হাতে পণ্য তুলে দেয়, তারা এই সিদ্ধান্তের জেরে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে। বর্তমান বাজারের জনপ্রিয় ডিটুসি ব্র্যান্ড যেমন— মামাআর্থ (Mamaearth), বোট (boAt) এবং ওয়েকফিট (Wakefit)-এর মতো বহু সংস্থাই এই বিশেষ মডেলের ওপর ভিত্তি করে ব্যবসা পরিচালনা করে থাকে। ফলে ক্রমবর্ধমান লজিস্টিকস খরচ এই সমস্ত উদীয়মান ব্র্যান্ডগুলির জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কারণ, অধিকাংশ ডিটুসি ব্র্যান্ডই খুব কম প্রফিট মার্জিনে ব্যবসা করে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে শিপিং বা ডেলিভারি খরচ বেড়ে যাওয়ায় তাদের ব্যবসার খরচ বা বাজেট ম্যানেজমেন্ট সামলানো এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
সাধারণত প্রতি বছর অক্টোবর মাসে দীপাবলি বা দুর্গাপূজার মতো বড় উৎসবগুলির মরসুমে লজিস্টিকস রেট বা শিপিং চার্জ সংশোধন করার একটা পুরোনো দস্তুর রয়েছে। কিন্তু এবছর উৎসবের ভরা বাজারের ঠিক আগেই, অর্থাৎ সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকেই এই অতিরিক্ত সারচার্জ বা চার্জ আরোপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডেলিভারি সংস্থাগুলি। কোম্পানিগুলির যুক্তি অনুযায়ী, বিমান জ্বালানির আকাশছোঁয়া দাম, গ্রাউন্ড স্টাফদের রক্ষণাবেক্ষণ এবং গোটা ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের খরচ যেভাবে হু হু করে বেড়েই চলেছে, তাতে ব্যবসার অস্তিত্ব রক্ষা করতেই এই কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা ছিল না। আর সেই কারণেই উৎসবের মরসুমের ঠিক আগে এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।