জেলের অন্দরে বসে পাকিস্তানেও কি ফোন? যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীর সেল থেকে মিলল পেনড্রাইভ ও ওয়াই-ফাই সামগ্রী

প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ফের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এল। এবার জেলবন্দি কুখ্যাত অপরাধী তথা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত আফতাব আহমেদ আনসারির ব্যক্তিগত সেল থেকে উদ্ধার হলো তিনটি অত্যাধুনিক মোবাইল ফোন, ওয়াই-ফাই রাউটার এবং নগদ হাজার হাজার টাকা। খাস জেলের অন্দরে বসে এত কিছু কীভাবে চলছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।
পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গিয়েছে, গোয়েন্দাদের কাছে আগে থেকেই সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল যে জেলের ভেতরে বসে নিয়মিত বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে আফতাব আনসারি। শুধু ফোনে কথা বলাই নয়, জেলবন্দি অবস্থায় সে অবাধে ইন্টারনেট পরিষেবাও ব্যবহার করছে বলে খবর পান তদন্তকারীরা। এই গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সম্প্রতি প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের ১৪ নম্বর সেলে একটি আকস্মিক এবং বিশেষ তল্লাশি অভিযান চালানো হয়।
অভিযান চলাকালীন আফতাবের বিছানাপত্র এবং জামাকাপড়ের তলা থেকে একে একে উদ্ধার হয় তিনটি মোবাইল ফোন, দুটি রাউটার, ওয়াই-ফাই সংক্রান্ত একাধিক যন্ত্রাংশ, দুটি কার্ড রিডার, একটি পেন ড্রাইভ এবং ইয়ারফোন। এখানেই শেষ নয়, তার সেল তল্লাশি করে পাঁচশো টাকার নোটে মোট একচল্লিশ হাজার (৩১,০০০) টাকা নগদ উদ্ধার করেছেন কারা আধিকারিকরা। জেলের মতো একটি সুরক্ষিত পরিসরে একজন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দির কাছে এত বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক গ্যাজেটস এবং নগদ টাকা কীভাবে পৌঁছল, তা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, এই চক্রের নেপথ্যে জেলেরই কোনো অসাধু কর্মী বা অন্য কোনো বন্দির প্রত্যক্ষ সহযোগিতা রয়েছে। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন যে আফতাব জেলের ভেতর থেকে ঠিক কার কার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত। বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রামের মতো আধুনিক এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে সে কোনো অপরাধমূলক বা আন্তর্জাতিক সংযোগ রক্ষা করছিল কি না, তাও জেরা ও প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এমনকী, পাকিস্তান সহ অন্য কোনো বিদেশি রাষ্ট্রে কোনো ইন্টারনেট কল বা গোপন বার্তা পাঠানো হয়েছিল কি না, সেই গুরুতর দিকটিও পুলিশি তদন্তের বিশেষ নজরে রয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্সি জেলের ভেতর বন্দিদের হাতে মোবাইল ফোন পৌঁছানোর অভিযোগ এই প্রথম নয়। এর আগে গত ১৫ মে সংশোধনাগারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৎকালীন সময়ে জেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবনতির অভিযোগে সুপার ও চিফ কন্ট্রোলারকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল এবং সিআইডি তদন্তও শুরু হয়েছিল। তা সত্ত্বেও কুখ্যাত আফতাব আনসারির সেল থেকে ফের রাউটার ও পেনড্রাইভ উদ্ধারের ঘটনা জেলের কড়া নিরাপত্তার ফাঁকফোকরগুলোকে আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। ঘটনার পর হেস্টিংস থানায় ইতিমধ্যেই একটি সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে এবং এই গ্যাজেটস ও টাকা কার মাধ্যমে সেলের ভেতরে ঢুসল, তার উৎস খুঁজতে জোরকদমে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।