ঠান্ডা জল খেলেই কি সর্দি-কাশি হয়? চিকিৎসকদের আসল সত্য ফাঁস জানলে চমকে যাবেন!

সাধারণ সর্দি-কাশি মূলত একটি ভাইরাল ইনফেকশন, যা প্রধানত নাক ও গলায় মারাত্মক প্রভাব ফেলে। বিশিষ্ট চিকিৎসকদের মতে, রাইনোভাইরাসসহ প্রায় ২০০ রকমের ভিন্ন ভিন্ন ভাইরাস এই রোগের জন্য দায়ী হতে পারে। এর ফলে সাধারণত নাক দিয়ে জল পড়া, ঘন ঘন হাঁচি, তীব্র গলা ব্যথা এবং কাশির মতো অস্বস্তিকর উপসর্গগুলি দেখা দেয়।
অনেকেরই মনে প্রশ্ন থাকে যে ঠান্ডা জল খেলে কি আদতে সর্দি হয়? চিকিৎসকরা এই বিষয়ে একেবারে স্পষ্ট জানাচ্ছেন যে, সরাসরি ঠান্ডা জল পান করার কারণে কখনো সর্দি হয় না। সাধারণ সর্দি-কাশির মূল এবং একমাত্র কারণ হলো ভাইরাস সংক্রমণ। সুতরাং, সুস্থ ব্যক্তিরা নিজেদের পছন্দমতো যেকোনো তাপমাত্রার জল পান করতেই পারেন। শুধু ঠান্ডা জল খেলেই সর্দি হতে পারে, এমন বৈজ্ঞানিক কোনো প্রমাণ নেই।
তাহলে কি ঠান্ডা জল খেলে কোনো শারীরিক অসুবিধা হতে পারে? বিশেষজ্ঞদের মতে, খুব বেশি ঠান্ডা জল পান করলে কারও কারও গলায় সাময়িক অস্বস্তি হতে পারে। যেমন গলা ব্যথা বা গলায় খরখরে ভাব দেখা দিতে পারে। যাঁদের আগে থেকেই গলায় ইনফেকশন বা অ্যালার্জির পুরোনো সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ঠান্ডা জল সেই অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। কিন্তু একে কখনোই সর্দির সরাসরি কারণ হিসেবে গণ্য করা যায় না।
সর্দি-কাশি এড়াতে ঠিক কী কী করা উচিত? সর্দি থেকে বাঁচতে ঠান্ডা জল খাওয়া বন্ধ করার চেয়ে ভাইরাস প্রতিরোধ করা অনেক বেশি জরুরি। খাওয়ার আগে ও পরে সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন। সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত আবশ্যক। বারবার মুখে, নাকে বা চোখে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত? সাধারণ সর্দি সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যে নিজ থেকেই সেরে যায়। কিন্তু সর্দির সঙ্গে যদি তীব্র জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা দীর্ঘস্থায়ী কাশি থাকে, তবে তা একেবারেই অবহেলা করবেন না। এমন পরিস্থিতিতে অবশ্যই অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মোদ্দা কথা, ঠান্ডা জল সরাসরি সর্দি ডেকে আনে না, তবে আপনার শরীরের জন্য যে তাপমাত্রার জল সবচেয়ে আরামদায়ক, সেটাই পান করা বুদ্ধিমানের কাজ।