গাছের ফারাকই বদলে দেবে ভাগ্য! এক লাফে দ্বিগুণ হবে রেশম উৎপাদন, মালদহের চাষিদের জন্য বাম্পার লক্ষ্মীলাভের সহজ টোটকা

মালদহে রেশম চাষের উৎপাদন এবং গুণমান এক লাফে বহুগুণ বাড়াতে এবার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। উন্নতমানের তুঁত পাতা চাষ থেকে শুরু করে রেশম গুটি উৎপাদন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সঠিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন অভিজ্ঞ রেশম চাষ আধিকারিক ও বিজ্ঞানীরা। তাঁদের জোরালো দাবি, উন্নতমানের পাতা ও গুটি উৎপাদন করা সম্ভব হলে বাজারে মিলবে রেকর্ড বাড়তি দাম, যার ফলে সরাসরি বৃদ্ধি পাবে সাধারণ চাষিদের আর্থিক আয়ও। সম্প্রতি মালদহের মোথাবাড়ির বাগমারা এলাকায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় রেশম বোর্ডের গবেষণা ও সম্প্রসারণ কেন্দ্রের উদ্যোগে শতাধিক রেশম চাষিকে নিয়ে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল।

সেখানে উন্নত প্রজাতির তুঁত চাষ, গুটি পোকার সঠিক পরিচর্যা এবং উৎপাদন বৃদ্ধির নানা আধুনিক পদ্ধতি একেবারে হাতে-কলমে শিখিয়ে দেওয়া হয়। মালদহ জেলা রেশম চাষ আধিকারিক সুরজিৎ চৌধুরী জানান, বর্তমানে বেশ কিছু উচ্চফলনশীল প্রজাতির তুঁত সফলভাবে উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। তবে কাঙ্ক্ষিত ফলন ও সর্বোচ্চ গুণমান নিশ্চিত করতে পরিচর্যার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। জমিতে একটি তুঁত গাছের সঙ্গে অন্য গাছের নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। একইভাবে গুটি পোকার ক্ষেত্রেও সঠিক দূরত্ব বজায় রাখা বাঞ্ছনীয়। বর্তমানে ১০০টি ডিম থেকে প্রায় ২৫ কেজি গুটি উৎপাদনের জায়গায় এই আধুনিক ও উন্নত পদ্ধতিতে ৫০ কেজি বা তারও বেশি উৎপাদনের উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। চাষের সময় কোনো সমস্যা দেখা দিলে বিজ্ঞানীদের পরামর্শ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, C-2038, C-2060 এবং গঙ্গা বা C-1360 এই উন্নত প্রজাতির তুঁত চাষের মাধ্যমে দারুণ মানের পাতা ও অধিক ফলন পাওয়ার প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে গুটির ওজন ও মান দুটিই বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। এক স্থানীয় রেশম চাষি ও গুটি উৎপাদনকারী মতিউর রহমান আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, পাতা ভালো হলে তবেই গুটি ভালো হয়, আর গুটি ভালো হলে উন্নতমানের সুতো তৈরি করা সম্ভব। সাধারণত ৪০ কেজি অর্থাৎ এক মণ গুটির দাম প্রায় ১৬ হাজার টাকা হলেও ভালো মানের গুটি বাজারে ২৭ হাজার টাকা পর্যন্ত চড়া দামে বিক্রি হয়।

প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মালদহ জেলায় বর্তমানে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ সরাসরি রেশম চাষ ও এই শিল্পের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত রয়েছেন। মূলত অগ্রহায়ণ, ফাল্গুন ও বৈশাখ—এই বিশেষ সময়গুলিতে রেশম চাষের প্রধান কাজগুলি সম্পন্ন হয়ে থাকে। বছরে একাধিকবার নিয়মানুগ তুঁত চাষ ও গুটি পোকার সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে মানসম্মত রেশম গুটি তৈরি করা হয়, আর সেই গুটি থেকেই পরবর্তীতে তৈরি হয় অত্যন্ত মূল্যবান রেশম সুতো। উন্নত প্রজাতির তুঁত চারা ও বিজ্ঞানসম্মত আধুনিক পদ্ধতির সঠিক প্রয়োগই এখন মালদহের গ্রামীণ অর্থনীতির ছবি সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।