মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ৫০০! নেপাল ও তিব্বতের ভয়াবহ বন্যায় ১৪০০ মানুষ নিখোঁজ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে চরম আতঙ্ক

চীন-নেপাল সীমান্তে তান্ডব চালানো ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রত্যক্ষভাবে ৯৩ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে এবং এখনও দেড় হাজারের কাছাকাছি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আকস্মিক এই বন্যার জেরে জলমগ্ন বিস্তীর্ণ অঞ্চল। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বুধবার বন্যার জলে সৃষ্টি হওয়া একটি হ্রদের বাঁধ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছিল, যার ফলে চরম ঝুঁকির মুখে সাময়িকভাবে উদ্ধারকাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় প্রশাসন। রাসুয়া জেলার কর্মকর্তা নরেন্দ্র পরিয়ার জানিয়েছেন, নদীর জলের স্তর বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পাহাড়ের ঢালে সরে যেতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে বিপদের ঝুঁকি কিছুটা কমায় প্রশাসন ফের উদ্ধারকার্য শুরু করেছে।
রেড ক্রস এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে শুধু নেপাল ও তিব্বতই নয়, ৩০টিরও বেশি দেশের অন্তত ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন। রেড ক্রসের মুখপাত্র ডেভিড ফিশার জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ভূমিধস ও হ্রদের জলের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে দুর্গত এলাকায় প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জাতিসংঘের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বিষয়ক কার্যালয়ের প্রধান কমল কিশোর সতর্ক করে বলেছেন যে এই বিপর্যয় এখনই শেষ হয়নি। এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, নিরাপদ পানীয় জলের অভাব, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন এবং অতিরিক্ত জনসমাগমের ফলে অবরুদ্ধ এলাকাগুলিতে ডায়রিয়া কিংবা শ্বাসতন্ত্রের মতো মারাত্মক সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের আশঙ্কা, উদ্ধারকাজ দ্রুত সম্পন্ন না হলে মৃতের সংখ্যা আরও বহুলাংশে বৃদ্ধি পেতে পারে।