‘বাড়ির আবর্জনা যেমন সাফ করেন, তেমনই এদের সাফ করতে হবে!’ বন্দে মাতরম বিতর্কে কার দিকে আঙুল তুললেন মুখ্যমন্ত্রী?

রাখিবন্ধন উৎসব উপলক্ষে নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরের আম্বেদকর কলোনিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দেশবিরোধীদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতা পুরসভার উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রাখি বন্ধন উৎসবের সূচনা করার পাশাপাশি একটি ভ্রাম্যমাণ রাখি ট্যাবলোরও উদ্বোধন করেন তিনি। আর সেই মঞ্চ থেকেই জাতীয়তাবাদ ও বন্দে মাতরমের অবমাননাকারীদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন।
এদিনের সভা থেকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে রাখি উৎসবকে ‘দেশপ্রেমের বন্ধন’ হিসেবে ঘোষণা করার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কলকাতার রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাঁরাই ‘আজাদি’ স্লোগান তোলেন বা ভারতের অখণ্ডতার বিরুদ্ধে কথা বলেন, তাঁদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আর্টস হোস্টেলের দেওয়ালে মাওবাদী নেতা কিষেণজিকে ‘রেড স্যালুট’ জানানোর মতো ঔদ্ধত্য বরদাস্ত করা যায় না। যে ব্যক্তি সংবিধান পুড়িয়ে দেওয়ার কথা বলতেন এবং দেশভাগের ডাক দিতেন, তাঁকে কীভাবে সমর্থন জানানো হয়, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বন্দে মাতরম ও জনগণমন-এর মতো জাতীয় সংগীত ও দেশপ্রেমের স্লোগান নিয়ে যাঁদের আপত্তি রয়েছে, তাঁদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় বলেন, দেশের বাইরের শত্রুদের তো উপযুক্ত জবাব দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দেওয়া হবে, কিন্তু দেশের ভেতর থেকে যাঁরা জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমকে আক্রমণ করেন, তাঁদেরও বাড়ির আবর্জনা পরিষ্কার করার মতো আস্তে আস্তে সাফ করে ফেলতে হবে। এদিন যাদবপুরের অপর একটি কর্মসূচি থেকেও বাম ও উগ্রপন্থী মানসিকতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, একসময় যাদবপুরকে কেন্দ্র করে যে দেশবিরোধী মানসিকতা তৈরি করা হয়েছিল, তা থেকে বাংলার সংস্কৃতি ও পরম্পরাকে রক্ষা করার জন্য সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।