ক্যামাক স্ট্রিটে ধুন্ধুমার কাণ্ড! পুলিশ ও পুরসভার বিরুদ্ধে সরাসরি হাইকোর্টের দ্বারস্থ অভিষেক-ডেরেক শিবির!

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের রাজনৈতিক অফিস থেকে জোর করে বিলবোর্ড ভাঙা এবং পুলিশি হেনস্থার ঘটনায় এবার সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলো শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর এই মামলাটির জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন জানিয়ে তৃণমূলের বিশিষ্ট আইনজীবী কিশোর দত্ত বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর একক বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। আদালতের মাননীয় বিচারপতি মামলাটি দায়ের করার অনুমতি প্রদান করলেও ঠিক কখন এর শুনানি হবে, তা এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিয়েছেন। একইসঙ্গে, মামলার অপর পক্ষকেও এই আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি অবিলম্বে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার বিকেলে। অভিযোগ ওঠে, গতকাল বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিট নাগাদ কলকাতা পুরসভা এবং কলকাতা পুলিশের একটি বিশাল দল যৌথভাবে হানা দিয়ে ক্যামাক স্ট্রিটে অবস্থিত তৃণমূল কংগ্রেসের ওই পার্টি অফিসের শীর্ষ ফ্লোরে থাকা একটি বিতর্কিত বিলবোর্ড জোরপূর্বক ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। পুরকর্মীরা পুলিশ বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে বিলবোর্ড অপসারণের কাজ শুরু করতেই মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত ও রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। অভিযোগ, পুরসভার আধিকারিক ও পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েনসহ কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতি বেধে যায়। সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
এই ধুন্ধুমার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই কলকাতা পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজার সুদীপ কুমার বসু থানায় একটি সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পরবর্তীতে শেক্সপিয়র সরণি থানায় একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে খাস তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, হুমায়ুন কবীর, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় সহ একাধিক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা এবং তাঁদের বেশ কিছু অনুগামীর বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে কলকাতা পুলিশ। বর্তমানে তদন্তকারী অফিসাররা ঘটনার সমস্ত দিক অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন।
অন্যদিকে, পুলিশের এই কঠোর পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল শিবির। দলের পক্ষ থেকে জোরালো অভিযোগ করা হয়েছে যে, পুলিশ সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এবং কোনো রকম বৈধ নোটিশ বা পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই তালা ভেঙে জোর করে তাদের দলীয় অফিসে প্রবেশ করে। শুধু তাই নয়, প্রতিবাদ করতে গেলে রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনকে ধাক্কা দিয়ে সিঁড়িতে ফেলে দেওয়া হয় এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত মহিলা কর্মীদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার ও শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে বলেও অভিযোগ তুলেছে ঘাসফুল শিবির। তৃণমূল নেতৃত্বের স্পষ্ট দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় সহ সমস্ত নেতাদের একটি নির্দিষ্ট ফ্লোরে জোর করে আটকে রেখে পুলিশ ও পুরসভা যৌথভাবে এই প্রতিহিংসামূলক ও বেআইনি ভাঙচুর চালিয়েছে।