ফের ধাক্কা ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর! আরও ৪টি নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার আর্জি খারিজ করল হাইকোর্ট

রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত আইনি লড়াইয়ে ফের বড় ধাক্কা খেল ‘কালীঘাট তৃণমূল’। আদালতের পূর্বনির্ধারিত নির্দেশ ও তদন্তের গতিপ্রকৃতি অক্ষুণ্ণ রাখতে আরও নতুন চারটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার যে আবেদন জানানো হয়েছিল, তা এক প্রকার খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতির স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, এই মুহূর্তে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার অনুমতি দিলে আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশের গুরুত্ব ও কার্যকারিতা সম্পূর্ণভাবে লঙ্ঘিত হবে।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গিয়েছে, গত ৭ জুলাই ইন্ডিয়ান ব্যাংকের মোট চারটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছিল বলে দাবি করে ‘কালীঘাট তৃণমূল’। এরপর লেনদেনের স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং প্রশাসনিক নজরদারি কঠোর করার উদ্দেশ্যে নতুন করে আরও চারটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হন সংশ্লিষ্ট পক্ষ। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও দেবরাজ ও সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে প্রায় ১৭ কোটি টাকা জমা রাখার হিসাব তুলে ধরে এই সমস্ত আর্থিক লেনদেনের ওপর কড়া নজরদারির জোরালো আর্জি জানানো হয়েছিল।
এর আগে আদালতের তরফ থেকে শর্ত সাপেক্ষে এইচডিএফসি (HDFC) ব্যাংকের তিনটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের সীমিত অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে নতুন করে আরও চারটি অ্যাকাউন্ট খোলার আর্জি সামনে আসতেই বিচারপতির এজলাসে নতুন আইনি বিতর্ক শুরু হয়। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তাঁর পর্যবেক্ষণে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই অতিরিক্ত চারটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া আইনি নিয়মের পরিপন্থী। বিচারপতির মতে, যদি এই বিশেষ সুযোগ এখনই দেওয়া হয়, তবে আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশ এবং তার শর্তাবলি তার আইনি গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলবে।
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, ১৭ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন এবং তার উৎস নিয়ে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই আইনি জট ঘনীভূত হচ্ছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়া এবং নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার ওপর আদালতের এই কঠোর নিয়ন্ত্রণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। মামলার পরবর্তী পদক্ষেপে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের গভীরে পৌঁছাতে তদন্তকারী আধিকারিকেরা আরও কী কী কঠোর পদক্ষেপ করেন, সেদিকেই এখন সবার নজর আটকে রয়েছে।