খাসির মাংসের বদলে ব্যাগে মানুষের মাথার খুলি! গঙ্গাসাগরে যা ঘটল, জানলে ভয়ে আত্মা শুকিয়ে যাবে

মাংসের দোকান থেকে মিলল মানুষের মাথার খুলি! বৃহস্পতিবার সকালে গঙ্গাসাগরের কৃষ্ণনগর বাজারে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় রীতিমতো শিউরে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই লোমহর্ষক কাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার মাংসের দোকান। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল কৃষ্ণনগর বাজারে?

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে কৃষ্ণনগর বাজারের বাসিন্দা শত্রুগণ দাস ওই এলাকার আইয়ুব আলি শেখের মাংসের দোকানের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। সেই সময় দোকানদার তাঁকে একটি ব্যাগ হাতে তুলে দেন। শত্রুগণবাবু প্রথমে ভেবেছিলেন, আশপাশের কোনো বাড়ির পরিচিত ক্রেতা হয়তো মাংস পৌঁছে দেওয়ার জন্য ব্যাগটি তাঁর হাতে দিয়েছেন।

কিন্তু রাস্তাঘাটে ব্যাগটি খুলে ভেতরে তাকাতেই তাঁর চোখ কপালে ওঠে। ব্যাগের ভেতর পরিষ্কার দেখতে পান একটি মানুষের মাথার খুলি! এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে তৎক্ষণাৎ চিৎকার শুরু করেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দারা। সকলে মিলে জেরা শুরু করেন দোকানদার আইয়ুব আলি শেখকে। জনতার জেরার মুখে পড়ে অভিযুক্ত দাবি করেন, তাঁর এক নাবালক ছেলে নাকি খালের ধারে মাছ ধরতে গিয়ে ওই খুলিটি দেখতে পেয়েছিল এবং কৌতূহলবশত সেখান থেকে সেটি কুড়িয়ে এনে বাড়িতে রেখেছিল। তবে খালের ধারে কীভাবে মানুষের খুলি এল এবং সেটি কতটা পুরনো, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি তিনি।

পুলিশের তদন্ত ও ফরেন্সিক পরীক্ষা

খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয় সাগর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ তৎক্ষণাৎ দোকান থেকে মাথার খুলিটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত এবং ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য কাকদ্বীপ মর্গে পাঠিয়ে দেয়। খুলিটির প্রকৃত উৎস কী এবং এর পেছনে কোনো অপরাধমূলক বা অন্ধকার জগতের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ চড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, অভিযুক্ত আইয়ুব আলি শেখ এলাকায় শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত এক স্থানীয় নেতা। যদিও উদ্ধার হওয়া মাথার খুলির সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনও পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। পুলিশ দোকানদারকে আটক করে ব্যাপক জেরা চালাচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ফরেন্সিক পরীক্ষার ফলাফল হাতে এলেই এই লোমহর্ষক ঘটনার আসল সত্য সামনে আসবে বলে মনে করছে পুলিশ প্রশাসন।