সীমান্ত বন্ধ, ছিন্ন সম্পর্ক! বিশেষ ভিসায় ভারতে পা রাখলেন ১৫০ পাকিস্তানি হিন্দু বধূ, আরও ৬০০ জনের আসার প্রস্তুতি

অপারেশন সিঁদুর’ এবং আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার রাজনৈতিক সম্পর্কে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আর এই ভূরাজনৈতিক সংঘাতে বড় ধরনের দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন দুই দেশে বিভক্ত হওয়া বহু পরিবার ও দম্পতি। তবে সমস্ত বাধা পেরিয়ে ছত্তীসগঢ়ের ঐতিহাসিক শাদানি দরবারের বিশেষ উদ্যোগে সম্প্রতি প্রায় ১৫০ জন পাকিস্তানি হিন্দু বধূ বিশেষ ভিসায় নিরাপদে ভারতে এসে পৌঁছেছেন। শুধু তাই নয়, তাঁদের হাত ধরে আরও প্রায় ৬০০ জন পাকিস্তানি নাগরিককে ভারতে নিয়ে আসার জোরালো প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
বিশেষ ভিসায় ভারতে ফেরা
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে ভারতীয় পুরুষদের সাথে বিবাহিত পাকিস্তানি হিন্দু নারীদের ভারতে প্রবেশ করা একপ্রকার অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় রায়পুরের বিখ্যাত শাদানি দরবার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে বিশেষ ভিসার জন্য জোরালো আবেদন জানায় তারা। সরকারের অনুমতি পাওয়ার পরই গত এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে প্রায় ১৫০ জন পাকিস্তানি হিন্দু বধূ নিরাপদে ভারতে তাঁদের স্বামী ও পরিবারের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হন।
৬০০ জনের নতুন তালিকা প্রস্তুত
প্রাথমিক সাফল্যের পর এবার শাদানি দরবারের পক্ষ থেকে প্রায় ৬০০ জন পাকিস্তানি হিন্দুর একটি নতুন ও দীর্ঘ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। দেশভাগের কালবেলা থেকে যে পরিবারগুলি দুই দেশে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল, তাঁদের এবার একে অপরের সঙ্গে পুনর্মিলিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই নতুন তালিকায় প্রায় ২০০ জন এমন মহিলা রয়েছেন, যাঁরা ভারতীয় নাগরিকদের সঙ্গে বিবাহিত এবং স্বামীর কাছে ফিরতে চান। পাশাপাশি, পাকিস্তানে যাঁদের নিকটাত্মীয় মারা গেছেন, সেই চিতাভস্ম গঙ্গায় বিসর্জনের জন্য ভারতে আসার অনুমতি চেয়েছেন এমন শোকার্ত ব্যক্তিরাও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
সীমান্ত বন্ধের জেরে বাড়ছিল সংকট
আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত দীর্ঘকাল ধরে বন্ধ থাকায় দুই দেশের সাধারণ মানুষের যাতায়াত পুরোপুরি থমকে গেছে। ফলে যাঁদের আত্মীয়তা বা বৈবাহিক সম্পর্ক দুই দেশেই ছড়িয়ে রয়েছে, তাঁরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। বিকল্প হিসেবে তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে ভারতে আসার পথও অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠেছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে শাদানি দরবারের ভূমিকা পরিবারগুলির কাছে বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে। শাদানি দরবারের প্রাক্তন প্রধান সন্ত যুধিষ্ঠির লাল জানিয়েছেন, তাঁদের মূল লক্ষ্য কেবল বধূদের ফিরিয়ে আনা নয়, বরং দেশভাগে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া প্রতিটি পরিবারকে পুনরায় এক ছাদের তলায় নিয়ে আসা। ১৯৬৮ সাল থেকেই পাকিস্তানে বসবাসকারী হিন্দু তীর্থযাত্রী ও বিপন্ন মানুষজনের পাশে দাঁড়িয়ে আসছে এই দরবার। বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেও সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তাঁরা মানবিক এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।