পুলিশ ঢুকতেই কুকুর লেলিয়ে দিল পরিবার! সাট্টা ডনের বাড়িতে পুলিশি হানা

রাতে আচমকাই বাড়িতে হানা দিয়েছিল পুলিশ। তল্লাশি অভিযানের সামান্য আভাস পেলেও হয়তো টাকাপয়সা লুকিয়ে ফেলার সুযোগ মিলত। কিন্তু সে সময়টুকুও মেলেনি। তার আগেই কড়া নাড়ে পুলিশের কড়া বুট। কী করা উচিত বুঝতে না পেরে শেষ পর্যন্ত বাড়ির পোষ্য ডোবারম্যান কুকুরটিকে পুলিশকর্মীদের দিকে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হয়নি। টাকা ও সোনা লুকোনোর পর্যাপ্ত সময় না পেয়ে শেষপর্যন্ত বাধ্য হয়েই বাড়ির ছাদ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা এবং সোনাদানা নিচে ছুড়ে ফেলতে শুরু করেন অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যরা। বুধবার রাতে উত্তরপাড়ার তিন নম্বর কাঁসারি পুকুর রোডে এই রুদ্ধশ্বাস কাণ্ডকারখানা ঘিরে গোটা এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরপাড়ার এই বাড়ির মালিক সঞ্জয় মজুমদার এলাকায় কুখ্যাত ‘সাট্টা ডন বাপি’ নামেই পরিচিত। দীর্ঘ দিন ধরে তার বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে সাট্টার ঠেক চালানোর একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাতে চন্দননগর কমিশনারেটের গোয়েন্দা শাখা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী যৌথভাবে এই বাড়িতে মেগা অভিযান চালায়। পুলিশি হানার মুখে পড়ে এই নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হলেও মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় মজুমদারের এখনও পর্যন্ত কোনো হদিশ মেলেনি। তবে পুলিশ এই অভিযানে তল্লাশি চালিয়ে নগদ সাড়ে বারো লক্ষ টাকা এবং প্রায় দেড় কেজি সোনা উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি, এই ঘটনায় বাড়ির দু’জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

চন্দননগর পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, বেআইনি সাট্টা কারবারের রমরমা খবর পেয়েই এই আচমকা তল্লাশি চালানো হয় এবং বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও সোনা বাজেটাপ্ত করা হয়েছে। পলাতক মূল অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চলছে। অন্য একটি অভিযানে কোন্নগর এলাকা থেকে কুখ্যাত দুষ্কৃতী হুব্বা শ্যামলের ভাই এবং তাঁর এক সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে বেআইনি জমি দখল ও কারবারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। সবমিলিয়ে মধ্যরাতের পুলিশি অভিযানে উত্তরপাড়া ও কোন্নগর চত্বরে অপরাধ জগতের ভিত নড়ে গিয়েছে।