চিনির পর এবার পেঁয়াজ নিয়ে হুংকার! মাত্র ৩৫ টাকায় কোথায় মিলবে পেঁয়াজ?

উৎসবের মরশুমের দোরগোড়ায় এসে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের বাজারে ফের চরম অস্বস্তি শুরু হয়েছে। চিনির দামের আকস্মিক বৃদ্ধির পর এবার সাধারণ মানুষের ঘরের হেঁসেলে সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পেঁয়াজের দাম। গত এক মাসে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে খুচরো বাজারে এক কেজি পেঁয়াজের দাম প্রায় ৬০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। প্রাইস মনিটরিং ডিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে পেঁয়াজের দাম প্রায় ৫৯ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। যার জেরে মধ্যবিত্তের পকেটে টান পড়ার পাশাপাশি ছোট-বড় রেস্তোরাঁয় রান্নার খরচও অনেকটাই বেড়ে গেছে।
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে বড় পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্রীয় নরেন্দ্র মোদী সরকার। আসন্ন উৎসব এবং বিয়ের মরশুমের চাহিদা মেটাতে সরকার তাদের পেঁয়াজের বাফার স্টক খুলে দিয়েছে এবং অতিরিক্ত পেঁয়াজ সরবরাহ শুরু করেছে। সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর জন্য দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে পেঁয়াজ মজুদ রয়েছে।
মাত্র ৩৫ টাকায় পেঁয়াজ মিলবে কোথায়?
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে ইতিমধ্যেই নাসিক থেকে নয়াদিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছে ‘কান্দা এক্সপ্রেস’। পাশাপাশি, ১০টিরও বেশি প্রধান গন্তব্যে পেঁয়াজ পৌঁছে দেওয়ার জন্য ১৫টিরও বেশি বিশেষ ট্রাক পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। রেল ও সড়ক পরিবহনের সমন্বয়ে একটি আধুনিক হাইব্রিড লজিস্টিকস মডেলের মাধ্যমে এই পেঁয়াজ বণ্টন করা হচ্ছে।
উৎসবের আগে বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ন্যাশনাল কো-অপারেটিভ কনজিউমারস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (NCCF) এবং ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল কো-অপারেটিভ মার্কেটিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (NAFED)-র পাশাপাশি এবার সেন্ট্রাল ওয়্যারহাউজিং কর্পোরেশনকেও পেঁয়াজ সংরক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মোবাইল ভ্যান এবং সফল ও কেন্দ্রীয় ভান্ডারের আউটলেটের মাধ্যমে মাত্র প্রতি কেজি ৩৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু হয়েছে।
নাসিক থেকে বর্তমানে দিল্লি-এনসিআর ছাড়াও চেন্নাই, কলকাতা, এর্নাকুলাম, গুয়াহাটি, বারাণসী, লখনউ, পাটনা, চণ্ডীগড়, জম্মু এবং অমৃতসরে পেঁয়াজ পাঠানো হচ্ছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে সারা ভারতে পেঁয়াজের গড় খুচরো দাম প্রতি কেজি প্রায় ৩৭.৮৭ টাকা, যেখানে টমেটোর দাম ৩৮.৩৩ টাকা এবং আলু প্রতি কেজি ২২.৬৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকারের এই তৎপরতার ফলে উৎসবের মরশুমে পেঁয়াজের বাজারদর অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।